নিজস্ব প্রতিবেদন:
অনলাইন দুনিয়ায় নিজেকে তাওহীদের দাবিদার, অ্যাক্টিভিস্ট, লেখক ও সাংবাদিক হিসেবে পরিচয়দানকারী আরাফাত তানভীরের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে ঘুরে বেড়ানো এসব অভিযোগ সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসায় সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
নারী সংক্রান্ত আচরণ নিয়ে অভিযোগ:
অভিযোগে বলা হয়েছে, আরাফাত তানভীর বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার সমাধানের অজুহাতে নারীদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ইনবক্সে যোগাযোগ রাখতেন।
কখনো চাকরির প্রলোভন, কখনো ধর্মীয় কার্যক্রমের আড়ালে যোগাযোগ —এ ধরনের একাধিক ঘটনার অভিযোগ বহু দিন ধরে জমা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
বিভেদ সৃষ্টির অভিযোগ:
দ্বিতীয় প্রধান অভিযোগ হচ্ছে, তাওহীদপন্থী আলেম ও সাধারণ মুসলিম জনতার মধ্যে বিভক্তি তৈরি করা।
অভিযোগ অনুযায়ী, আরাফাত তানভীর বিভিন্ন ফেইক আইডি ব্যবহার করে আলেমদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতেন এবং মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতেন। বিশেষ করে শাইখ মুফতি হারুন ইযহার সাহেবের বিরুদ্ধে খুব বেশি লেখালেখি করতেন। শাইখ হারুন ইযহার মাজলুমদের পক্ষে মামলার কাজ করাকে কেন্দ্র বিদ্রূপ করতেন।
প্রাথমিকভাবে তার বক্তব্য বিশ্বাস করে অনেকেই সংশ্লিষ্ট আলেমদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করতে শুরু করেছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
ব্যক্তিগত স্বার্থের অভিযোগ:
অভিযোগকারীদের দাবি, ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া পূরণ না হওয়ায় আরাফাত তানভীর অনলাইনে এসব অপপ্রচার শুরু করেন। বিশেষ করে নির্দিষ্ট একটি কেন্দ্রকে ঘিরে তার ব্যক্তিগত স্বার্থ জড়িত ছিল বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
মুরুব্বিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন:
অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট সিনিয়র ব্যক্তিদের (মুরুব্বি) কাছে আগে থেকেই উপস্থাপন করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
তবে অভিযোগকারীদের দাবি, যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়া এবং নীরব ভূমিকার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
❗ চ্যালেঞ্জ ও কসম প্রসঙ্গ:
উপরোক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত আরাফাতকে প্রকাশ্যে একটি নির্দিষ্ট আইডির মালিকানা অস্বীকার করতে বলা হয়েছে।
এক্ষেত্রে “কুল্লামার কসম” (শপথ) করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যা সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে বিবেচিত।
মিডিয়া কার্যক্রমে প্রভাব:
এছাড়াও অনলাইন মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম The Bengal News এর অবনতির জন্যও তাকে দায়ী করা হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত, অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের অভাব এবং নেতৃত্ব সংকটের কারণে মিডিয়াটির বর্তমান অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
প্রশ্ন উঠেছে—
কেন একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা প্ল্যাটফর্ম দুর্বল হয়ে পড়ছে?
কেন নতুন প্ল্যাটফর্ম তুলনামূলক বেশি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে?