ইসরায়েল সম্প্রতি ইরানের উপর চালানো সামরিক অভিযানের নাম দিয়েছে “Rising Lion”। এই নামটি শুধুমাত্র একটি কোডনেম নয়—এর মধ্যে লুকিয়ে আছে তিনটি গভীর স্তরের বার্তা যা ধর্মীয় বিশ্বাস, ঐতিহাসিক প্রতীক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বহন করে।
এই নামটি এসেছে বাইবেলের Numbers 23:24 নামক আয়াত থেকে, যেখানে বলা হয়েছে:
“A nation will rise like a lion, devouring prey and drinking the blood of the slain.”
এই বাক্যটির মাধ্যমে এক যুদ্ধপ্রস্তুত জাতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ইসরায়েল এখানে নিজেকে সেই ‘সিংহ’ জাতি হিসেবে উপস্থাপন করছে—যে শত্রুদের পরাস্ত করবে এবং ধর্মীয় ন্যায় প্রতিষ্ঠা করবে। এতে বোঝানো হচ্ছে, এই যুদ্ধ শুধু ভূরাজনৈতিক নয়, বরং ঈশ্বরের পক্ষ থেকে পরিচালিত এক ধর্মীয় কর্তব্য।
ইহুদি ধর্মে ‘Lion of Judah’ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক, যা ঈশ্বরপ্রদত্ত শক্তি, অভিভাবকত্ব এবং বিজয়ের প্রতিচ্ছবি হিসেবে বিবেচিত।
এই নামের মাধ্যমে ইসরায়েল জাতিকে এক মেসিয়ানিক (মুক্তিদাতা) মিশনের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করছে। এটি একটি বার্তা—
“আমরা ঈশ্বরের আদেশে লড়ছি এবং এই বিজয় অবশ্যম্ভাবী।”
“Rising Lion” নামটি শুধু ধর্মীয় ব্যাখ্যাতেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি ইরানের অতীত রাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকেও স্মরণ করিয়ে দেয়। পহলভি রাজবংশের আমলে ইরানের জাতীয় পতাকায় ছিল ‘Lion and Sun’ প্রতীক।
এই নামের মাধ্যমে ইসরায়েল এক ধরনের গোপন রাজনৈতিক ইঙ্গিত দিচ্ছে—
“আমরা চাই, ইরানে ইসলামী শাসনের পরিবর্তে আবার রাজতন্ত্র বা গণতন্ত্র ফিরে আসুক।”
এটি ইঙ্গিত দেয় যে, যুদ্ধের বাইরে ইসরায়েলের লক্ষ্য একটি বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন।
🔹 Rising Lion নামটি ইসরায়েলের দৃষ্টিতে ধর্মীয় দায়িত্ব ও ঐশ্বরিক বৈধতা প্রকাশ করে।
🔹 এটি ইহুদি প্রতীকবাদ ব্যবহার করে আত্মবিশ্বাস এবং বিজয়ের বার্তা দেয়।
🔹 এবং ইরানে শাসন পরিবর্তনের ইচ্ছা প্রকাশ করে এক রূপান্তরমুখী রাজনৈতিক বার্তা দেয়।
এই একটি নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে তিনটি স্তরের যুদ্ধ: ধর্মীয়, প্রতীকী, এবং রাজনৈতিক।