তারিখ: ২৯ জুন ২০২৫ | সূত্র: SANAD Human Rights
সৌদি আরবের প্রখ্যাত আলেম, দাঈ ও সত্যের uncompromising voice হিসেবে পরিচিত শায়খ আবদুল আজিজ আত-তারফি দীর্ঘ ৯ বছর কারাবাসের পর অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন, জানিয়েছে SANAD Human Rights Organization।
২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে তাঁকে গ্রেফতার করা হয় মূলত তাঁর টুইট বার্তাগুলোর জন্য—যেখানে তিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান, জনগণের ন্যায্য অধিকারের পক্ষে কথা বলেন এবং সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করেন। এসব বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তাঁকে বিনা বিচারে আটক করে দীর্ঘ সময় কারাগারে আটকে রাখা হয়।
শায়খ আত-তারফির কারাবাসকাল ছিল চরম কষ্টকর। SANAD-এর মতে, তিনি জোরপূর্বক গুম, চিকিৎসাবঞ্চনা, ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার শিকার হন। প্রায় পুরো সময়টাই পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় তাঁকে রাখা হয়।
তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, মুক্তি পেলেও তাঁকে পাবলিক বক্তব্য প্রদান, কোনো কিছু প্রকাশ করা এবং দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাখা হয়েছে। এর অর্থ, শায়খ এখনও পুরোপুরি স্বাধীন নন।
শায়খ আত-তারফি সৌদি আরবের অন্যতম প্রভাবশালী ইসলামি চিন্তাবিদ, যিনি সালাফি মানহাজে দাওয়াতি কাজ করতেন। সমাজের নানা অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার ছিলেন, বিশেষ করে জুলুম, অবিচার এবং দ্বীনহীন রাজনীতি সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য ছিল সুস্পষ্ট ও সাহসী। তাঁর গ্রেফতারি ছিল মতপ্রকাশের স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন।
এই মুক্তি শুধু একজন আলেমের নয়, বরং এটি এক দীর্ঘস্থায়ী দমননীতির প্রতিচ্ছবি এবং মধ্যপ্রাচ্যের মানবাধিকার পরিস্থিতির আরেকটি নিদর্শন। তাঁর নিঃশব্দ মুক্তির মধ্য দিয়ে সৌদি সরকারের দমননীতির বাস্তবতা ও মুসলিম বুদ্ধিজীবীদের ওপর চাপ আরো স্পষ্ট
হয়ে উঠছে।