শীর্ষ তালেবান নেতাদের বিরুদ্ধে ICC’র গ্রেপ্তারি পরোয়ানা — একটি ইসলামপন্থী পর্যবেক্ষণ
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) সম্প্রতি এক বিস্ময়কর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা তালেবানের শীর্ষ নেতাদের — বিশেষত আমীরুল মু’মিনীন হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা এবং ইমারতের প্রধান বিচারপতি আব্দুল হাকিম হাক্কানির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। অভিযোগ— মানবতাবিরোধী অপরাধ, নারী নির্যাতন এবং যুদ্ধাপরাধ। কিন্তু প্রশ্ন হলো — এই ‘অপরাধ’ কার দৃষ্টিতে অপরাধ? কাদের মূল্যবোধের বিপরীতে?
তালেবান কি সত্যিই অপরাধী? নাকি পশ্চিমাদের চোখে ‘অপরাধী’?
তালেবান একমাত্র প্রতিরোধশক্তি যারা ২০ বছর ধরে মার্কিন দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে অবশেষে রক্তের বিনিময়ে আফগানিস্তানকে মুক্ত করেছে। তারা এমন একটি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে যেখানে ইসলাম, শরিয়াহ এবং জাতীয় আত্মমর্যাদা রক্ষিত হয়।
তালেবান নারী-পুরুষ সকলের জন্য এমন এক সমাজ গঠনের চেষ্টা করছে যেখানে নগ্নতা, পাশ্চাত্য সংস্কৃতির দাসত্ব ও ফেমিনিজমের নামে সামাজিক বিশৃঙ্খলা নেই। তারা নারীদের ‘বন্দি’ করে না, বরং তাদের ইজ্জত ও পবিত্রতা রক্ষার নিরাপদ ছায়া দেয়।
ICC’র পরোয়ানা: নতুন উপনিবেশিক অস্ত্র?
আজকে ICC যে তালেবান নেতাদের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে, তাদের দোষ একটাই — তারা ইসলামি আইনের ভিত্তিতে রাষ্ট্র চালাচ্ছে। অথচ ICC কখনও ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের গণহত্যার বিচার করেনি, কাশ্মীরে ভারতের ধর্ষণ ও বর্বরতার বিচার করেনি।
ইরাক, সিরিয়া, সুদান, লিবিয়া — যেখানে মুসলিম নেতারা ইসলামের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, সেখানেই ‘মানবাধিকার’ নামের অস্ত্র দিয়ে ICC তাদের বিরুদ্ধে লেগেছে।
ইমারতে ইসলামিয়ার জবাব: “আমরা এসব পরোয়া করি না!”
আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে বিবৃতি ইতোমধ্যেই এসেছে। ইমারতে ইসলামিয়ার মুখপাত্র মুহতারাম জবিউল্লাহ মুজাহিদ হাফিজাহুল্লাহ স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন:
“এই ধরনের ঘোষণা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইসলামি ইমারতের শরিয়াহ-ভিত্তিক শাসনের উপর কোনও প্রভাব ফেলবে না। আমরা শরিয়াহ অনুযায়ী বিচার পরিচালনা করব ইনশাআল্লাহ।”
তিনি আরও বলেন:
“আমরা তো এই তথাকথিত আন্তর্জাতিক আদালতগুলোকে স্বীকৃতিই দিই না। সুতরাং তাদের বিচার আমাদের কোনোভাবেই মান্য নয়।”
সিংহদের জবাব সিংহদের মতোই
এই জবাব শুধুই কথার ঝড় নয় — এটা একটি স্বতন্ত্র ইসলামি রাষ্ট্রের ঈমানদার সাহসের বহিঃপ্রকাশ। পৃথিবীর কোনো রাষ্ট্র কি এমনভাবে পশ্চিমাদের মুখে দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলতে পারে?
এই জবাব শুধুই তালেবানের নয় — এটা একদিন সমগ্র উম্মাহর জবাব হবে ইনশাআল্লাহ।
এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আসলে ইসলামি শাসনের বিরুদ্ধে এক নগ্ন ঘোষণা। আজ যদি তালেবানকে ‘অপরাধী’ বানানো যায়, কাল যদি শরিয়াহকে ‘অপরাধ’ প্রমাণ করা যায় — তবে মুসলিম উম্মাহর ভবিষ্যৎ কোথায় দাঁড়াবে?
এই জুলুমের বিরুদ্ধে, এই নব্য-উপনিবেশিক আক্রমণের বিরুদ্ধে আমাদের সচেতন হওয়া জরুরি। কারণ একদিন এই আদালতের নিশানা হয়তো আমাদের ঈমান, কুরআন, সুন্নাহ ও খিলাফতের স্বপ্ন হবে।