টিবিএন ডেস্ক | জুলাই ২০২৫
বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম আবারও একটি বড় ষড়যন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। আর এই ষড়যন্ত্রে মুখ্য চরিত্র হয়ে উঠছে সন্তু লারমা এবং তার অনুসারীরা।
সাম্প্রতিক সময়ে সন্তু লারমার রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক তৎপরতা নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সন্তুর নেতৃত্বাধীন কিছু গোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে তথাকথিত “জুম্মল্যান্ড” প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টায় লিপ্ত।
জাতিসংঘের সদর দফতরে দাঁড়িয়ে সন্তু লারমার নাতনি অগাস্টিনা চাকমা দাবি করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে নিরাপত্তা বাহিনী সরিয়ে নিতে হবে এবং পুনর্বাসিত বাঙালিদের বিতাড়িত করতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে একটি ‘স্বাধীন অঞ্চল’ তৈরির চেষ্টারই ইঙ্গিত দেয়।
অথচ, এই গোষ্ঠীর অনেকে সরকারের বিভিন্ন সুবিধা উপভোগ করছেন, কিন্তু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গিয়ে দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে চলেছেন।
সন্তু লারমা নামটি পার্বত্য রাজনীতিতে বহুল আলোচিত। কেউ কেউ তাকে সরাসরি “বাঙালির ঘাতক” আখ্যায়িত করেন।
১৯৭৫ সালের শেষাংশে সন্তু বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। এরপর থেকে পার্বত্য তিন জেলায় অস্ত্রধারী জেএসএস, আরসিএসসহ একাধিক সশস্ত্র গ্রুপের নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন। পাহাড়ে হরতাল, অবরোধ, অপহরণ, মুক্তিপণ, চাঁদাবাজি এসব এখন অনেকটাই রুটিন অপরাধে পরিণত হয়েছে।
সম্প্রতি পার্বত্য এলাকায় কয়েকটি সেনা ক্যাম্প সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে করে সন্ত্রাসীদের চলাফেরার এলাকা আরও উন্মুক্ত হয়ে গেছে।
সূত্র মতে, আধুনিক অস্ত্র ও টানেল নির্মাণসহ নানা প্রস্তুতি চলছে পাহাড়ে। কে দিচ্ছে এই অস্ত্র? কারা প্রশিক্ষণ দিচ্ছে? এসব প্রশ্নের উত্তর প্রশাসনের কাছে স্পষ্ট নয়।
সন্ত্রাসীদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ বাধিয়ে সেনাবাহিনী ও বাঙালিদের জড়ানো হচ্ছে এবং পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় তা “মানবাধিকার লঙ্ঘন” হিসেবে প্রচার করে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চাওয়ার কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতের কাশ্মীর দখলের মডেলকে অনুসরণ করেই কেউ কেউ পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে একই পরিকল্পনা করছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, ভারত-বাংলাদেশ উত্তেজনা এবং করিডোর ইস্যু ঘিরে যখন ঢাকা ব্যস্ত, তখন বিদেশি পৃষ্ঠপোষকতায় সন্তুরা আন্তর্জাতিক মঞ্চে কান্নাকাটি চালিয়ে যাচ্ছে।
এ মুহূর্তে সরকারকে বিশেষভাবে সতর্ক ও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
দেশের ভেতরেই যদি একটি আলাদা রাষ্ট্র গড়ে তোলার স্বপ্ন কেউ দেখে, তবে তা প্রতিহত করতে হবে শুরুতেই।
বাংলাদেশের প্রতিটি ইঞ্চি ভূমি রক্ষায় প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, নিরাপত্তা বাহিনীর দৃঢ়তা এবং সাধারণ জনগণের সচেতনতা। সময় এখনই—অন্যথায় পাহাড়ে গড়ে উঠতে পারে আরও একটি আগ্নেয়গিরি।
আরাকান দেশ টিভি