নিউজ ডেস্ক ব্যাঙ্গল নিউজ
বুথিডাং, আরাকান | ২৯ জুলাই ২০২৫:
পশ্চিম মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী আরাকান আর্মির সহিংস ও একতরফা অভিযান ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। সম্প্রতি বুথিডাং শহরের বিভিন্ন গ্রামে একের পর এক রোহিঙ্গা অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। কোনো ধরনের অভিযোগ বা বিচারের তোয়াক্কা না করেই সাধারণ কৃষক, শ্রমজীবী ও পরিবার সদস্যদের জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যাচ্ছে এই সশস্ত্র গোষ্ঠী।
গত ২৭ জুলাই সন্ধ্যায় বুথিডাংয়ের আলী ইউন গ্রামে ধানক্ষেতে কাজ করার সময় তিনজন রোহিঙ্গা কৃষককে অপহরণ করে আরাকান আর্মি। পরদিন সকালেও একই এলাকায় আরও চারজনকে কোনো কারণ ছাড়াই তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। আটক ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা জানায়, তাদের এখন পর্যন্ত জানা নেই—তাদের প্রিয়জনেরা কোথায় আছেন, কী অপরাধে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে কিংবা আদৌ তাঁরা বেঁচে আছেন কিনা।
এর আগে ২৪ জুলাই, বুথিডাংয়ের মায়াং নাহ গ্রামে, সবজি সংগ্রহ করতে গিয়ে এক বাবা ও ছেলেকে অপহরণ করে আরাকান আর্মি। কয়েকদিন পর ফিরে আসা ছেলেটি জানায়, তাদের চোখ বেঁধে একটি অজানা স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং আলাদা করে আটকে রাখা হয়। তার বাবা এখনও নিখোঁজ।
সবচেয়ে বড় এবং ভয়াবহ অপহরণের ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (২৫ জুলাই), যখন বুথিডাং শহরের ‘সিন নিয়েন প্যা’ ও ‘থা ফিত টাউন’ গ্রাম থেকে একযোগে ৬০ জন রোহিঙ্গা কৃষককে ধরে নিয়ে যায় সন্ত্রাসী আরাকান আর্মির সদস্যরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কোনো সতর্কতা ছাড়াই প্রায় ৫০ জন সশস্ত্র সদস্য এসে কৃষকদের আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। অপহৃতদের মধ্যে জমির মালিক ও দিনমজুরসহ একাধিক পরিবারের সদস্যও রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, এই একতরফা অপহরণ ও নিপীড়নের মাধ্যমে আরাকান আর্মি রোহিঙ্গাদের মধ্যে ভয় ছড়াতে চায়, যাতে করে তারা নিজেরাই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি পরিকল্পিত জাতিগত নিপীড়নের অংশ। গত এক বছর ধরে আরাকান আর্মি রাজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ অঞ্চল দখলে রেখেছে এবং সেখানকার সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর চাপ প্রয়োগ করে এলাকা খালি করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
এই ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ। রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান এই বর্বর আচরণ বন্ধে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, আরাকান আর্মিকে আন্তর্জাতিকভাবে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করা এবং তাদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সঙ্ঘবদ্ধ নিষেধাজ্ঞা ও ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি। রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আরাকানে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
সূত্র: Arakan Desh TV