উপমহাদেশের প্রখ্যাত কবি ও সাহিত্যিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানান বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড়। বহু পাঠকের চোখে তিনি দেবতুল্য, আবার একাংশ গবেষকের দৃষ্টিতে তিনি ছিলেন একান্ত পক্ষপাতদুষ্ট, হিন্দুত্বনির্ভর ও মুসলিমবিরোধী ব্যক্তিত্ব। নিচে দলিলভিত্তিক কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উপস্থাপন করা হলো।
রবীন্দ্রনাথের দাদা দ্বারকানাথ ঠাকুর ছিলেন কলকাতার বিত্তবান ব্যক্তি। গোলাম আহমদ মর্তুজার লেখা “এ এক অন্য ইতিহাস” গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে যে, কলকাতায় তার ৪৩টি পতিতালয় ছিল। এ ছাড়াও আফিম ও মদের ব্যবসাও ছিল তার অন্তর্ভুক্ত।
[সূত্র: এ এক অন্য ইতিহাস, পৃ. ১৪১ / আনন্দবাজার পত্রিকা, ২৮ কার্তিক, ১৪০৬]
রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন—”মুসলমানরা ধর্মে ইসলামানুরাগী হলেও জাতিতে তারা হিন্দু।”
[সূত্র: আবুল কালাম শামসুদ্দিন, অতীত দিনের স্মৃতি, পৃ. ১৫০]
তাছাড়া, প্রশান্ত পালের রচনায় উল্লেখ রয়েছে, রবীন্দ্রনাথ ‘ঘর ওয়াপসি’র মতো কর্মকাণ্ডে সমর্থন দিয়েছেন এবং সেই কমিটির সদস্য ছিলেন।
ড. নীরদবরণ হাজরার “কলকাতা ইতিহাসের দিনলিপি” গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, ১৯১২ সালের ২৮ মার্চ রবীন্দ্রনাথের সভাপতিত্বে ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালযপ্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে কলকাতার গড়ের মাঠে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
‘কণ্ঠরোধ’ প্রবন্ধে মুসলমানদের “মূঢ়” এবং “ইতর শ্রেণীর অবিবেচক” বলে আখ্যা দেন। ‘রীতিমত নভেল’ নামক গল্পে মুসলিমদের ‘ম্লেচ্ছ’, ‘যবন’ বলে চিহ্নিত করা হয়।
[সূত্র: রবীন্দ্র রচনাবলী, খণ্ড ১০, পৃ. ৪২৮]
রবীন্দ্রনাথ খাজনা বাড়িয়েছিলেন এবং কালিপূজার নামে অতিরিক্ত খাজনা আদায় করতেন বলে দাবি করেন গবেষক সরকার শাহাবুদ্দিন আহমেদ। ইসলাইল মোল্লার নেতৃত্বে প্রজাবিদ্রোহও সংঘটিত হয়েছিল।
[সূত্র: জমিদার রবীন্দ্রনাথ – অমিতাভ চৌধুরী; শিলাইদহ ও রবীন্দ্রনাথ – শচীন্দ্র অধিকারী]
সৈয়দ মুজিবুল্লার “বিতণ্ডা” গ্রন্থে দাবি করা হয়—কবি স্বীকার করেছিলেন, “কোরআন বেশিদূর পড়তে পারিনি, আর রসুলের জীবন চরিতও ভালো লাগেনি।”
[সূত্র: বিতণ্ডা, পৃ. ২২৯]
রবীন্দ্রনাথের পরিবার ব্রাহ্ম হলেও হিন্দু আচার পালন চালু ছিল। দেবেন্দ্রনাথ হিন্দু মতে শ্রাদ্ধ করেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ পৈতা অনুষ্ঠান করেছিলেন, যা ব্রাহ্ম মতে বর্জনীয়।
[সূত্র: আত্মচরিত – রাজনারায়ণ বসু; এ এক অন্য ইতিহাস]
গবেষকরা দাবি করেন, রবীন্দ্রনাথ ইংরেজি গীতাঞ্জলির অনেকাংশ অনুবাদ করেননি, বরং অনুবাদ ও ভাষা শৈলীতে মূল ভূমিকা ছিল সি. এফ. অ্যান্ড্রুজ ও উইলিয়াম বাটলার ইয়েটসের।
[সূত্র: আত্মঘাতী রবীন্দ্রনাথ, খণ্ড ১, পৃ. ১৪৫]
বাল গঙ্গাধর তিলকের শিবাজী উৎসব, যা মুসলিম বিদ্বেষমূলক ছিল, সেখানে রবীন্দ্রনাথ সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
[সূত্র: ড. নুরুল ইসলাম মনজুর, গতিধারা – জুলাই ২০১০]
১৯০৫ সালের পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ গঠনের বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনাথ নেতৃত্ব দেন, যা মুসলিমদের শিক্ষা, অর্থনীতি ও প্রশাসনে অগ্রগতির এক সুযোগ ছিল।
[সূত্র: Eastern Bengal and Assam Reports, 1905-06]