গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর অব্যাহত হামলায় প্রাণ হারালেন বিশ্ববিখ্যাত আল জাজিরার ফিলিস্তিনি সাংবাদিক আনাস জামাল আশ-শরীফ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দখলকৃত ফিলিস্তিনে চলমান গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের খবর সাহসিকতার সঙ্গে তুলে ধরছিলেন।
গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের সন্তান আনাস আল শরীফ কেবল একজন সাংবাদিক নন—তিনি ছিলেন সত্যের এক অটল কণ্ঠস্বর। জীবনের ঝুঁকি নিয়েও তিনি নিয়মিত ক্যামেরার সামনে এসে গাজায় ইসরায়েলি হামলার ভয়াবহতা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতেন। বহুবার তিনি রিপোর্টিংয়ের সময় আবেগাপ্লুত হয়েছেন, চোখে পানি চলে এসেছে, তবু তিনি দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে যাননি।
শহীদ হওয়ার আগে তিনি নিজের ফেসবুক পেজের অ্যাডমিনের কাছে একটি হৃদয়বিদারক ওয়াসিয়ত রেখে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন—
“যদি আমার এই বার্তা আপনাদের কাছে পৌঁছে, বুঝে নেবেন ইসরায়েল আমাকে হত্যা ও কণ্ঠরোধ করতে সক্ষম হয়েছে।”
তিনি ফিলিস্তিনকে “মুসলিমদের মুকুটের রত্ন” আখ্যা দিয়ে বিশ্ব মুসলিম ও স্বাধীনচেতা সকল মানুষের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা গাজার শিশু ও নিরীহ জনগণের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ান এবং দখলদারিত্বের শৃঙ্খল ভেঙে দেয়।
নিজ পরিবারের প্রতি গভীর মায়া প্রকাশ করে তিনি তাঁর কন্যা শাম, পুত্র সালাহ, মা এবং স্ত্রী উম্মে সালাহ বায়ানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি অনুরোধ করেন, তাঁর মৃত্যুর পরও যেন সবাই তাঁদের পাশে থাকে এবং আল্লাহর পরে তাঁদের ভরসা হয়।
শহীদ আনাস আল শরীফ তাঁর শেষ বার্তায় আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে দোয়া করেন—
“হে আল্লাহ, আমাকে শহীদদের অন্তর্ভুক্ত করুন, আমার অতীত ও ভবিষ্যতের গুনাহ মাফ করুন, এবং আমার রক্তকে আমার জনগণ ও পরিবারের স্বাধীনতার পথে আলো বানিয়ে দিন।”
তাঁর মৃত্যু গাজায় সাংবাদিকতা ও সত্য প্রকাশের সংগ্রামে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করল। বিশ্ব মিডিয়ায় যে কয়েকজন সাংবাদিক গাজার যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরাসরি খবর দিতেন, আনাস আল শরীফ ছিলেন তাঁদের অন্যতম শীর্ষ কণ্ঠস্বর।
গাজাকে ভুলে যেয়ো না… আর আনাস আল শরীফকে ভুলে যেয়ো না।
— সংবাদ সংগ্রহ ও সংকলন