বাংলাদেশের কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে প্রভাব বিস্তার নিয়ে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপগুলোর দ্বন্দ্ব ক্রমশ রক্তক্ষয়ী রূপ নিচ্ছে। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে কেবল RSO (Rohingya Solidarity Organisation)-এর হাতে প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপ আরসা (ARSA)-এর অন্তত ৮৩ জন সদস্য নিহত হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সদস্যের বরাত দিয়ে জানা গেছে, RSO বর্তমানে সরকারের নীরব সমর্থনে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে অলিখিত সমন্বয়ে কাজ করছে।
এই অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে RSO ক্যাম্পে তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে এবং শত শত আরসা সদস্যকে গ্রেফতার করাতে ভূমিকা রেখেছে। যদিও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে এ গ্রুপটির জনপ্রিয়তা সীমিত, তবে প্রশাসনিক যোগাযোগের কারণে এর প্রভাব এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
RSO ১৯৮২ সালে আরাকানে রোহিঙ্গাদের অধিকার রক্ষার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সংগঠনটি স্বকীয়তা হারায়। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, বিলাসিতা ও বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগে এর নেতৃত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। এমনকি ১৯৮০-৯০ দশকে কিছু বাংলাদেশি মুসলিম আরাকানে হিজরত করলে তাদের সাথেও প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতার ঘটনা ঘটায় RSO।
উল্লেখ্য, আরাকানে মুসলিম নিধন ২০১৭ সালে শুরু হয়নি; ১৯৮০-৯০ দশক থেকেই বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের হাতে রোহিঙ্গাদের উপর হত্যাযজ্ঞ চলে আসছে।
এই পরিস্থিতিতে ২০১৬ সালে আবু আম্মার জুনুনি আরসা প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই RSO, আরসাকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখে। লক্ষ লক্ষ মুসলিম আরাকানে গণহত্যার শিকার হলেও RSO, আরসার সাথে যৌথভাবে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানায়। যদিও আরসার আমির জুনুনি একাধিকবার সব রোহিঙ্গা গ্রুপকে একত্রিত হয়ে বৌদ্ধ সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন।
আরাকান রাজ্যে বর্তমানে RSO-এর উপস্থিতি নেই বললেই চলে। তবে বাংলাদেশে কক্সবাজারের ক্যাম্প এলাকা ও বান্দরবানের কিছু অঞ্চলে এই গ্রুপের সদস্যদের অস্ত্র হাতে ঘুরতে দেখা যায়। তাদের বিরুদ্ধে খুন, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
রোহিঙ্গাদের মধ্যে কেউ কেউ বলছে— যদি আরসা রোহিঙ্গাদের জন্য হামাস হয়, তবে RSO হলো ফাতাহ।
সূত্র: Voice of Arakan