ফারাবীর এক পোস্টে কমেন্ট করাটাই মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) মেধাবী শিক্ষার্থী, হাফেজ ও আলেম আব্দুল মান্নান ইয়াহিয়ার জন্য।
ইয়াহিয়া ছিলেন কওমি ও আলিয়া—উভয় ধারায় শিক্ষিত একজন মেধাবী ছাত্র। কওমি মাদ্রাসায় আলেম হওয়ার পাশাপাশি আলিয়া মাদ্রাসা থেকে ইন্টারমিডিয়েট শেষ করে শাবিপ্রবিতে ভর্তি হন। সেখানে অনার্স শেষ করার পর মাস্টার্স করছিলেন এবং বিসিএস পরীক্ষার জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—ফ্যাসিস্ট আওয়ামী প্রশাসনের মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে ইয়াহিয়ার স্বপ্নগুলো ধূলিস্যাৎ হয়ে যায়।
এক রাতে তাকে তিন ভাই ও এক ভাগ্নাসহ ঘর থেকে তুলে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ভাগ্না ও ছোট ভাই বয়সে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হলেও বড় ভাই আব্দুল মান্নান ইয়াহিয়া ও অপর এক ভাইকে রিমান্ডের পর রিমান্ডে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। দীর্ঘ ১৬ মাস কারাবাস শেষে ছোট ভাই নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে মুক্তি পেলেও, ইয়াহিয়াকে ২৬ মাস কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে রেখে নির্যাতন করা হয়। এতে তার কিডনি ড্যামেজসহ গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত বিনা চিকিৎসায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
ইসলামী ছাত্র মজলিসের দায়িত্বশীল এই শিক্ষার্থীর “অপরাধ” ছিল—তিনি ফারাবীর পোস্টে একটি কমেন্ট করেছিলেন।
আজ ফারাবী মুক্ত বাতাসে, আওয়ামী প্রশাসন সেই একই মামলায় শাবিপ্রবির মেধাবী ছাত্র ও ইসলামী ছাত্র মজলিসের নেতা আব্দুল মান্নান ইয়াহিয়াকে শহীদ করে দিলো কারাগারের ভেতরেই। আরেক দায়িত্বশীল ছাত্রনেতা মোনাইম আজও জেলে বন্দী।
সোর্স : শহিদ ইয়াহিয়ার বোন উম্মে ইফতি