আফগানিস্তানের অর্থনীতিতে নতুন এক চমকের ইঙ্গিত মিলেছে। গত মাসেই নুরিস্তান প্রদেশের কামবিদিশ ও বারগামতাল জেলায় ৮.৯ কোটি আফগানি ব্যয়ে পাঁচটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু করে তালেবান সরকার। এর মধ্যে রয়েছে সেচব্যবস্থা, রাস্তা ও সেতু নির্মাণ। তখনই বিশ্লেষকরা বলেছিলেন—বিশ্ববাসীকে চমক দেখাতে উঠেপড়ে লেগেছে তালেবান সরকার। আর এবার তারা আরও বড় সুখবর দিল: আফগান মুদ্রা ‘আফগানি’র মান বেড়েছে ২১ শতাংশ।
আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিশ্চিত করেছে, বিশেষ করে মার্কিন ডলারের বিপরীতে আফগানি মুদ্রার মান উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বক্তব্য
আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র হাসিবুল্লাহ নূরী জানান, অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
মুদ্রার মান ধরে রাখা,
ব্যাংকিং খাত সম্প্রসারণ,
উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়ন বৃদ্ধি।
তিনি বলেন, উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংক ঋণপ্রদান বেড়েছে ৭১ শতাংশ। গত বছর বিদেশী মুদ্রার বিপরীতে আফগানি ৭৯ শতাংশ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে, বিশেষত মার্কিন ডলারের বিপরীতে।
এছাড়া বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ২০০টি ব্যাংকের সঙ্গে আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক লেনদেন করছে, যা ভবিষ্যতে আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অর্থনীতি বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, আন্তর্জাতিক ব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার হলে আফগানিস্তানের ব্যাংকিং খাতের বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর হবে। একইসঙ্গে বিকল্প আর্থিক রিজার্ভ নিশ্চিত করা গেলে মুদ্রার মান স্থিতিশীল রাখাও সহজ হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে তবে দীর্ঘমেয়াদে দেশটির অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার থেকে তালেবান ক্ষমতা দখলের সময় বিপুল পরিমাণ ডলার নিয়ে দেশ ছাড়েন বহু প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। এতে দেশটিতে তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। এমনকি কিছু পরিবার সন্তান বিক্রির মতো চরম পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়।
কিন্তু তালেবান সরকারের চার বছরের শাসনে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে আফগানিস্তানের অর্থনীতি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন আবারও সুদিন ফিরতে শুরু করেছে দেশটিতে।