আজকের সমাজে যখন মানুষ মরার পর পরিবারকে “সান্ত্বনা অনুদান” হিসেবে ভিক্ষার মতো ৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়, তখন শরীয়াহ আইনে মানুষের প্রাণের মূল্য কতটা মর্যাদাপূর্ণ — তা অবাক করার মতো।
ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী, যদি কেউ ভুলক্রমে বা অনিচ্ছাকৃতভাবে কাউকে হত্যা করে —
তাহলে তাকে শুধু ক্ষমা চাওয়াই যথেষ্ট নয়; বরং এর জন্য রয়েছে স্পষ্ট আর্থিক ও আধ্যাত্মিক জবাবদিহিতা।
আল-কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:
> “যে কোনো মুমিনকে ভুলক্রমে হত্যা করবে, তার উপর হবে এক জন মুমিন দাসকে মুক্তি দেওয়া এবং নিহতের পরিবারকে রক্তপণ (দিয়াত) প্রদান করা।”
— সূরা আন-নিসা ৪:৯২
রাসূল ﷺ ও খলাফায়ে রাশেদীনের যুগে এই রক্তপণ (দিয়াত) নির্ধারিত ছিল একশ (১০০) উট।
বর্তমান বাজারমূল্যে একশ উটের দাম আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকারও বেশি।
অর্থাৎ শরীয়াহ আইনে একটি মানুষের প্রাণের মূল্য এতটাই মর্যাদাপূর্ণ যে, সেটিকে টাকায় মাপলে কোটি টাকারও ওপরে দাঁড়ায়।
এছাড়া, যদি কারও পক্ষে দাসমুক্তি দেওয়া সম্ভব না হয়,
তাহলে পরপর দুই মাস রোযা রাখা তার জন্য বাধ্যতামূলক — এটা তার আল্লাহর কাছে তাওবা ও কফফারা হিসেবে গণ্য হয়।
শরীয়াহর এই বিধান শুধু অর্থের নয়, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও মানবিক মর্যাদা রক্ষার এক বাস্তব দৃষ্টান্ত।
আর আজ আমরা দেখছি, অনিচ্ছাকৃত হত্যার পর পরিবারকে দেওয়া হয় “সাহায্যের” নামে মাত্র ৫ লাখ টাকার চেক — যেন প্রাণের মূল্য নির্ধারিত হয় টাকার অঙ্কে, ন্যায়বিচারে নয়।