এনা পরিবহনের মালিক এনায়েতুল্লাহর বিরুদ্ধে দুদক তদন্তে বিলম্ব; নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ২ কার্যদিবসের আল্টিমেটাম দিয়েছে
ঢাকা, ৬ নভেম্বর ২০২৫ (নিজস্ব প্রতিবেদক) —
নিরাপদ সড়ক আন্দোলন (নিসআ) বুধবার জানান, নজিরবিহীন দুর্নীতি, কোটি টাকার চাঁদাবাজি, রুট পারমিট বাণিজ্য ও মানি লন্ডারিংসহ নানা অভিযোগে এনা পরিবহনের মালিক খন্দকার এনায়েতুল্লাহর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত কার্যক্রমে বাধা ও বিলম্ব হচ্ছে। এ কারণে নিসআ এক সংবাদ সম্মেলনে আগামী ২ কার্যদিবসের মধ্যে অনুসন্ধানী ব্যবস্থা কার্যকর না হলে কঠোর পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে নিসআ’র সাধারণ সম্পাদক তানজিদ মোহাম্মদ সোহরাব দাবি করেন, সাময়িকভাবে তদন্ত স্থগিত থাকলেও ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর পুনরায় এনায়েতুল্লাহর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে দুদক। সেই তদন্তে এনায়েতুল্লাহর বিরুদ্ধে প্রায় ১,১০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পত্তি গড়ে তোলার তথ্য উঠে এসেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
নিসআয়ের অভিযোগের সারাংশ:
এনায়েতুল্লাহ আওয়ামী শাসনামলে পরিবহন মালিক সমিতির উচ্চপদে থেকে নানাভাবে কোটি টাকার চাঁদা আদায় করতেন।
দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি, রুট পারমিট বাণিজ্য এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে দুদকের তদন্ত পরিচালিত হয়; তবে ‘রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ’ের কারণে তদন্তে ব্যহত করা হয়েছে—নিসআ এমন মন্তব্য করেছে।
২০২৫ সালের ৫ মে আদালত এনা পরিবহন ও স্টার লাইনের ১৯০টি বাস জব্দের নির্দেশ দিয়েছিলেন; বহির্বিশ্বে পালিয়ে যাওয়ার আগে এনায়েতুল্লাহ এসব সম্পদ বিক্রি করার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ।
বর্তমানে কিছু বাস পরিচালনার মধ্যদিয়ে রাজনীতিক সহায়তা ও ঝটিকা মিছিল অর্থায়ন করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
নিসআ আশঙ্কা করেছে, জব্দকৃত বাসগুলো যদি বিআরটিসির মাধ্যমে হস্তান্তর না করা হয় কিংবা দুদকের অনুসন্ধান কার্যকর না হয়, তাহলে তাদের আন্দোলন আরও জোরদার হবে। তারা আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে নির্দিষ্ট ফলাফল দাবি করেছে।
প্রতিক্রিয়া: অভিযুক্ত খন্দকার এনায়েতুল্লাহ বা তার পক্ষ থেকে জাতীয় সংবাদমাধ্যমে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। দুদকও এ বিষয়ে তৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি।
পটভূমি: গত কয়েক বছরে পরিবহন খাতের উপর নানান অভিযোগ ও অনিয়ম নিয়ে সমালোচনা দেখা গেছে; কোনো কোনো ক্ষেত্রে আদালত বা দায়িত্বশীল সংস্থা জড়িত হয়ে ব্যবস্থা নিয়েছেন। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের তীব্রতার ভেতরে এই অভিযোগ নতুন নয়, তবে আজকের আল্টিমেটামটি প্রসঙ্গটি পুনরায় সমালোচনার কেন্দ্রে এনেছে।
নিসআ বলছে, শীত শুরু হওয়ার আগে দেশের পরিবহন খাতকে দুর্নীতি-শূন্য করা না হলে তারা অনির্বচনীয় কর্মসূচি গ্রহন করবে।