ডেঙ্গুর ধরনে ভয়াবহ পরিবর্তন, বুঝে ওঠার আগেই মৃত্যু
ঢাকা, ৬ নভেম্বর ২০২৫ (নিজস্ব প্রতিবেদক)
দেশে ডেঙ্গুর ধরনে এসেছে নাটকীয় পরিবর্তন। সংক্রমণ দ্রুত শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে, দেখা দিচ্ছে শক সিনড্রোম—ফলে রোগীরা বুঝে ওঠার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন।
রাজধানীর মিরপুরের গৃহবধূ সালমা বেগম (৩৫) প্রথমে জ্বর থেকে সেরে উঠলেও এক সপ্তাহের মধ্যেই পুনরায় আক্রান্ত হয়ে আইসিইউতে ভর্তি হওয়ার পর মারা যান। একইভাবে হাফেজ সাইফুর রহমান ত্বকী (২৫) দ্বিতীয় দফায় জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে মৃত্যু বরণ করেন।
চিকিৎসকরা বলছেন, এবারের ডেঙ্গু ভ্যারিয়েন্ট অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও বিভ্রান্তিকর। প্রথম জ্বর সেরে যাওয়ার পরও শরীরের ভেতরে প্লাটিলেট ও অক্সিজেনের মাত্রা হঠাৎ কমে যাচ্ছে। সামান্য ফ্লুইড ব্যবস্থাপনার ভুলও প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে।
মুগদা মেডিকেলের চিকিৎসক ডা. ইমরান হোসেন মালিথা জানান, “এই ভ্যারিয়েন্টে তরুণরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে, এবং শক সিনড্রোম খুব দ্রুত দেখা দিচ্ছে।”
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরে ৭০ হাজার ৫১৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ২৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের অর্ধেকের বেশি পুরুষ। ভর্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় অর্ধেক রোগী মারা যাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক রোগী দ্বিতীয়বার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন, যা আরও মারাত্মক। ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, “এক্সপ্যান্ডেড ডেঙ্গু সিনড্রোমে লিভার, কিডনি ও হৃদযন্ত্র একসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ডেঙ্গু এখন গ্রামীণ অঞ্চলেও ছড়াচ্ছে। দ্রুত শনাক্তকরণ ও ফ্লুইড ব্যবস্থাপনার অভাবই মৃত্যুহারের মূল কারণ। তারা দাবি করেছেন, সারা দেশে প্রাথমিক পর্যায়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা চালু করা ও দ্রুত সফটওয়্যার কার্যকর করা জরুরি।
👉 সতর্কতা: জ্বর সেরে গেলেও ক্লান্তি, পেটব্যথা, মাথাঘোরা বা রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবিলম্বে হাসপাতালে যেতে পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।