ভেনেজুয়েলার তেল খাতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘একচেটিয়া অংশীদারিত্ব’ দাবি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন: চীন
ভেনেজুয়েলার তেল খাতে ‘একচেটিয়া অংশীদারিত্ব’ গঠনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং সরাসরি হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে চীন। বেইজিং বলেছে, এ ধরনের দাবি ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের ওপর গুরুতর আঘাত এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নগ্ন হস্তক্ষেপের শামিল।
মঙ্গলবার বেইজিংয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, “ভেনেজুয়েলা একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র। তাদের তেল সম্পদ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর পূর্ণ ও স্থায়ী সার্বভৌমত্ব রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের স্পষ্টতই বলপ্রয়োগ এবং দেশটির নিজস্ব তেল সম্পদ পরিচালনার ক্ষেত্রে আমেরিকার পক্ষ নিতে বাধ্য করার চেষ্টা একটি সরাসরি হুমকি। এটি আন্তর্জাতিক আইন এবং ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন।”
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ভেনেজুয়েলায় চীনসহ অন্যান্য দেশের বৈধ অধিকার রয়েছে, যা অবশ্যই সম্মান ও সুরক্ষিত করা উচিত। তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, বেইজিং ও কারাকাসের মধ্যে স্বাক্ষরিত সহযোগিতা চুক্তিগুলো দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় আইন দ্বারা সুরক্ষিত
ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা নতুন করে সামনে এসেছে। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং ট্রাম্পের বক্তব্যের পর চীনের এই কড়া প্রতিক্রিয়া ওয়াশিংটন–বেইজিং সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের পর চীনই ভেনেজুয়েলার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার।