ভারতের উত্তর প্রদেশের আলিগড় রোরাভার তেলিপাড়া এলাকায় সেহরির জন্য অপেক্ষারত অবস্থায় এক মুসলিম যুবককে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করেছে চার দুষ্কৃতকারী। শুক্রবার (১৫ মার্চ) দিবাগত রাতে ঘটে যাওয়া এ হত্যাকাণ্ডে নিহত ব্যক্তির নাম হারিস ওরফে কাট্টা।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানিয়েছে, হারিস সেহরির আগে ক্রিকেট ম্যাচ খেলে বাড়ি ফিরছিলেন। রাত ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে বাড়ির সামনে এক ব্যক্তির সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। কিছুক্ষণ পর দুটি মোটরসাইকেল তার পাশে এসে থামে। এক মোটরসাইকেলের পেছনের আরোহী হঠাৎ পিস্তল তাক করেন। হারিস নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু বন্দুকধারী প্রথম গুলিটি চলন্ত অবস্থায়ই চালান। এরপর দ্রুত আরও দুটি গুলি করে তাকে মাটিতে ফেলে দেন।
হারিস মাটিতে পড়ে যাওয়ার পর বন্দুকধারী নেমে আরও একটি গুলি ছুড়েন, নিশ্চিত হন যে সে মারা গেছে। এরপর দ্বিতীয় মোটরসাইকেলের পেছনের আরোহীও গুলি চালাতে গেলে তার বন্দুকটি কক করা ছিল না। সেটি ঠিক করে তিনি আরও তিনটি গুলি চালান। এরপর দুই মোটরসাইকেল দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। সিসিটিভির শেষ অংশে দেখা যায়, হারিস রাস্তায় পড়ে আছেন, আর একজন ব্যক্তি বাইকগুলোর পেছনে দৌড়াচ্ছেন।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড। তবে অন্যান্য দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযুক্তদের ধরতে নিরবচ্ছিন্ন তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
হারিসের আত্মীয় শোয়েব বলেন, “হারিস আমার ছোট ভাইয়ের মতো ছিল। আমাদের কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা ছিল না। সেহরির জন্য অপেক্ষা করছিলাম, তখনই এ ঘটনা ঘটে। আমরা দোষীদের কঠোর শাস্তি চাই।”
⚠ এই নির্মম হত্যাকাণ্ড মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।