চ্যাটজিপিটি আসার পর থেকে আমাদের অনেক কাজ সহজ হয়ে গেছে। কোনো কিছু জানার আগ্রহ হৃদয়ে জন্মালেই চ্যাটজিপিটিতে উঁকি দিই। ক্লাসে কোনো অ্যাসাইনমেন্ট দিতে হলে এখন আর কষ্ট করে রাত জেগে বইয়ের পাতা উল্টোতে হয় না। এক মিনিটেই চ্যাটজিপিটি থেকে তথ্য নিয়ে অ্যাসাইনমেন্ট করে ফেলি। কোথাও স্পিচ দিতে যাওয়ার আগে এখন আর চিন্তা করতে হয় না। চ্যাটজিপিটি থেকে সুন্দর করে স্ক্রিপ্ট নিয়ে কপি-পেস্ট করে হিরো হয়ে যাই। কী সুবিধা, তাই না? পৃথিবীর কাজ কত সহজ হয়ে গেছে। আসলেই কি তাই? মোটেও চ্যাটজিপিটি আমাদের উপকার করছে না বরং ক্ষতিই করছে। কী, অবাক হলেন? অবাক হওয়ার কিছু নেই। বুঝিয়ে বলছি।
চ্যাটজিপিটি মূলত দাজ্জালের মেধা শূন্য করার হাতিয়ার। ২০২২ সালের পূর্বে কেউ এর নামই শোনেনি। আদৌ কেউ কল্পনাও করেনি এমন কিছু একটা হওয়া সম্ভব। মানুষ আগে কিছু জানতে চাইলে গুগলের সাহায্য নিত। সেটা তেমন মন্দ কিছু ছিল না। গুগলে সবকিছু মনমতো পাওয়া যেত না। ওয়েবসাইটে মানুষ যেই তথ্য দিয়ে রাখত, সেই অনুযায়ী ফলাফল আসত। কিন্তু চ্যাটজিপিটি অনেক আধুনিক। ধীরে ধীরে সবাই চ্যাটজিপিটিমুখী হয়ে যাচ্ছে। একটা সময় বইপত্র সব উঠে যাবে। এখনই বাইরের দেশে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

আমাদের দেশের স্কুলগুলোতেও দেখবেন আধুনিকতার সাথে তাল মিলানোর নামে ছোট ছোট বাচ্চাদের হাতে ট্যাব ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যখন পৃথিবী থেকে বই ব্যান হয়ে যাবে, সবাই যখন ট্যাব দিয়ে স্টাডি করবে, কর্মক্ষেত্রেও এর ব্যবহার শুরু করবে, তখন সবার তথ্য প্রয়োজন হবে। যেই তথ্য দিয়ে লার্নিং এবং অফিসের কাজ পরিচালনা করা হবে। এই তথ্যের পাওয়ার হাউস হবে চ্যাটজিপিটি টাইপের আধুনিক কিছু ফিচার। তখন ধীরে ধীরে বই বিলুপ্ত করার চেষ্টা করা হবে। এদিকে মানুষের কোনো নজর থাকবে না।
এখন যে স্মার্টফোন/ট্যাব ব্যবহার করি আমরা, তখন সেগুলো আরও উন্নত হবে। অনেক স্মুথ হবে। বইয়ের মতোই মনে হবে অনেকটা। কিন্তু মু’মিনরা চ্যাটজিপিটির ধোঁকা বুঝতে পেরে তারা কিতাবকে আঁকড়ে ধরবে। তারা মাদ্রাসায় এই প্রচলন ঠেকানোর যথাসাধ্য চেষ্টা করবে। এতে করে অনেকের কাছে কিতাব মজুত থাকবে। কিন্তু তখন তাদের সেকেলে, গোঁড়া, ধর্মান্ধ ইত্যাদি ট্যাগ দেওয়া হবে। তাদের ট্রল করা হবে।
এখন যারা চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেন তারা খেয়াল করলে দেখবেন চ্যাটজিপিটি অনেক ভুল তথ্য দেয়। যারা নিয়মিত ইউজার তারা বিষয়টা ভালো করেই জানেন। যখন পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ চ্যাটজিপিটিমুখী হবে, তখন ধীরে ধীরে চ্যাটজিপিটি তার মুখোশ উন্মোচন করা শুরু করবে।
সে প্রচুর ভুল তথ্য দেওয়া শুরু করবে। সবকিছুতেই চেষ্টা করবে দাজ্জালের পক্ষে যায় এমন কিছু তথ্য দেওয়ার। অনেক সত্য গোপন করবে। মিথ্যা দিয়ে মানুষের ব্রেন ওয়াশ করা শুরু করবে।
আপনারা জানেন, দাজ্জালের ভিন্ন নাম কাজ্জাবুন অর্থাৎ মিথ্যাবাদী। একটা সময় চ্যাটজিপিটি কোনো কারণে ধ্বংস করে দেওয়া হবে। কিন্তু ততদিনে মানুষের হুঁশ ফিরতে দেরি হয়ে যাবে। তখন বইও থাকবে না জ্ঞানার্জনের জন্য। তখন একটা মূর্খ জাতি তৈরি হবে।
ইতিহাসের ছোট একটা কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। ফেরাউন নিজেকে খোদা দাবি করার পূর্বে তার রাজ্যের সব জায়গা থেকে লেখাপড়া বন্ধ করে দিয়েছিল। এই অবস্থা অনেক দিন চালু থাকতে থাকতে মানুষ মূর্খ হয়ে গিয়েছিল। তখন সে নিজেকে খোদা দাবি করার পর মানুষ অজ্ঞতার কারণে তাকে অবলীলায় খোদা হিসেবে মেনে নেয়।
কেবল মু’মিনরাই গোপনে ইলম অর্জন করেছিল। যার কারণে তারা তখন তাকে খোদা হিসেবে মানতে অস্বীকৃতি জানায়। দাজ্জালের বিষয়টাও অনেকটা এমনই হবে।
আরাফাত তানভীর, ২৬.০৩.২০২৫