গবেষণা প্রতিবেদন | আন্তর্জাতিক
গত ১১ দিনে পাকিস্তান সরকার জোরপূর্বক প্রায় ৪০ হাজার আফগান নাগরিককে দেশ থেকে বহিষ্কার করেছে। ইমারতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশের সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়গুলোতে পাকিস্তান থেকে আফগানদের বিতাড়নের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
১৫ এপ্রিল, আফগানিস্তানের কয়েকটি গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, প্রায় ৭,০০০ পরিবার তোরখাম সীমান্ত দিয়ে আফগানিস্তানে প্রবেশ করেছে, যাদের মধ্যে রয়েছে নথিপত্রবিহীন অভিবাসী, জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো ব্যক্তি ও স্বপ্রণোদিতভাবে ফেরা নাগরিকরা।
অমানবিক আচরণ ও পুলিশের দুর্নীতি
ফেরত আসা অনেক আফগান নাগরিক অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তানি পুলিশ তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে, নানান অজুহাতে অর্থ আদায় করেছে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করেছে।
মুহাম্মদ ইহসান নামে একজন ভুক্তভোগী বলেন:
“প্রথমবার যখন আমাকে গ্রেপ্তার করল, তখন তারা আমার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিল। তিনদিন পর ছেড়ে দিলেও পরে আবার বাজারে গেলে পুনরায় গ্রেপ্তার করে আরও ২০ হাজার টাকা নেয়।”
বখতিয়ার নামে আরেকজন জানান:
“আমাদের কোনো উপায় ছিল না। প্রচণ্ড চাপ ও নির্মম আচরণের মুখে পড়ে আমরা দেশে ফিরতে বাধ্য হই। তোরখামে সীমান্তে এসে তবেই একটু স্বস্তি পাই।”
তিনি আরও জানান, সীমান্তে ফর্ম পূরণ করতে গিয়েও ২০-৩০ হাজার রুপি ঘুষ দাবি করা হয়েছে।
সবকিছু ফেলে আসতে বাধ্য
৪৫ বছর আগে পাকিস্তানে পাড়ি জমানো কুনার প্রদেশের দাদ মুহাম্মদ বলেন:
“ঘরবাড়ি, বাইক, পণ্যবাহী গাড়ি—সব ফেলে আসতে হয়েছে। পুলিশ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আমাদের কিছু নিতে দেয়নি। সন্তানদের গাড়িতে উঠিয়ে পালিয়ে এসেছি মাত্র।”
সানাউল্লাহ নামের আরেক ভুক্তভোগী বলেন:
“তারা মাত্র তিন দিনের নোটিশে আমাদের দেশ ছাড়তে বলে। এত অল্প সময়ের মধ্যে কিছুই প্রস্তুত করা সম্ভব হয়নি, সবই ফেলে আসতে হয়েছে।”
মানবাধিকার লঙ্ঘন ও কৌশলগত চাপ
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাকিস্তানের এই ধারাবাহিক গণবহিষ্কার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও অভিবাসন নীতির লঙ্ঘন।
এটি একদিকে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা, অন্যদিকে প্রশাসনিক সক্ষমতার ওপর কৌশলগত চাপ সৃষ্টির একটি প্রচেষ্টা।
হঠাৎ করে এত বিপুল সংখ্যক নাগরিকের প্রত্যাবর্তন খাদ্য, চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন খাতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে।
ইমারতে ইসলামিয়ার কার্যকর উদ্যোগ
এই সংকট মোকাবিলায় ইমারতে ইসলামিয়া দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের প্রশাসনিক উপপ্রধান আব্দুস সালাম হানাফি নানগারহার ও কুনার প্রদেশ সফর করেন এবং পাকিস্তান ফেরত অভিবাসীদের জন্য জমি বিতরণ কার্যক্রমের সূচনা করেন।
এছাড়া, তোরখাম সীমান্ত ও আশপাশে শত শত অস্থায়ী শিবির স্থাপন করেছে প্রশাসন, যেখানে আশ্রয়, খাদ্য, চিকিৎসা ও পরিবহনসহ জরুরি মানবিক সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর পাশাপাশি সেনাবাহিনীও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে যেন প্রত্যেক শরণার্থী নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ সহায়তা পান।