১১ এপ্রিল ২০২৫
ওয়াকফ (সংশোধিত) আইন ঘিরে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলা। শুক্রবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে জেলার সুতি থানার অন্তর্গত সাজুর মোড় এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে পুলিশকে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করতে হয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীরা একাধিক সংগঠনের ডাকে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে অবরোধের চেষ্টা করেন। সেই সময় পুলিশ বাধা দিলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের কয়েকজন বোমা নিক্ষেপ করেন এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে ছুড়তে থাকেন ইট-পাথর। এই হামলায় বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী এবং পথচলতি সাধারণ মানুষ আহত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রথমে লাঠিচার্জ করে ও পরে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠায় জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পুলিশ সুপার আনন্দ রায় জানিয়েছেন, “অশান্তি দমন ও এলাকাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও ফোর্স পাঠানো হয়েছে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।”
গত কয়েক দিন ধরে ওয়াকফ (সংশোধিত) আইনকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর, সুতি, সামসেরগঞ্জ—সহ একাধিক অঞ্চলে ধারাবাহিক বিক্ষোভ চলছে। শুক্রবার সেই বিক্ষোভের মাত্রা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়, যখন হাজার হাজার মানুষ মিছিলে অংশ নিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন।
সাজুর মোড় এলাকায় একাধিক মিছিল একত্রিত হয়ে জাতীয় সড়কে অবস্থান নিতে গেলে যান চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটে। তখনই পুলিশ বাধা দিতে গেলে মুখোমুখি সংঘর্ষ শুরু হয়। বেশ কয়েকটি যানবাহনে ভাঙচুরের চেষ্টা করা হয় বলেও জানা গেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার বিক্ষোভকারীদের শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানানো হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের একাংশের আশঙ্কা, পরিস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে যদি দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপের কোনো উদ্যোগ না নেওয়া হয়।
এই মুহূর্তে সুতি ও সংলগ্ন এলাকাগুলোতে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।