আফগানিস্তানের তালেবান নেতৃত্বাধীন ইসলামী সরকার শরীয়তের আলোকে এক প্রশংসনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে— দেশজুড়ে হারাম ও সময় অপচয়কারী দাবা খেলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ খেলাটি একদিকে যেমন জুয়ার ভিত্তি তৈরি করে, অন্যদিকে মানুষের মন-মস্তিষ্ককে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল করে তোলে।
আফগানিস্তানের ক্রীড়া পরিচালনা অধিদফতরের মুখপাত্র আতাল মাশওয়ানি স্পষ্ট করে বলেছেন, “শরীয়তের দৃষ্টিতে দাবা খেলা জুয়ার অন্তর্ভুক্ত, তাই এটি ‘সদাচার প্রচার ও অসদাচার নিরুৎসাহকরণ’ আইনের অধীনে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।”
তাদের এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে কোনো ‘সেক্যুলার’ চিন্তাধারার লোকেরা যতই প্রশ্ন তুলুক না কেন, ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একেবারেই সঠিক পদক্ষেপ। কারণ, দুনিয়ার ফাঁদে পড়ে মুসলমানদের ঈমান ও সময় নষ্ট হচ্ছে এমন অনেক খেলা— তার মধ্যে দাবা অন্যতম।
একজন ক্যাফে মালিক আজিজুল্লাহ গুলজাদা বলেছেন, তারা কোনো ‘জুয়া’ খেলাননি, কেবল ‘বিনোদনের’ জন্য দাবা খেলা হয়েছে। আমরা জিজ্ঞেস করি, শরীয়তের বাইরে গিয়ে কি বিনোদন হালাল হতে পারে? মুসলমান মাত্রই জানে— এমন খেলাধুলা, যা আল্লাহর স্মরণ থেকে মানুষকে গাফেল করে, সেটি হারাম।
আরো বলা হয়েছে, মুসলিম অধ্যুষিত অন্যান্য দেশেও দাবা খেলা হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো— অন্যরা যদি শরীয়ত বিরোধিতা করে, তাই বলে আমরাও কি করব? মুসলমানদের পথ কখনো সংখ্যার উপর নির্ভর করে না; বরং নির্ভর করে কুরআন-সুন্নাহর উপর।
আফগান সরকারের এই পদক্ষেপ শুধু প্রশংসনীয় নয়, বরং গোটা মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি আদর্শ। আমরা আশা করি, বাংলাদেশসহ অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোও দ্রুত এমন ইসলামবিরোধী খেলাধুলা নিষিদ্ধ করে শরীয়তভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পথে অগ্রসর হবে।