মংডু, রাখাইন | ১৫ মে ২০২৫
রাখাইন রাজ্যের মংডু অঞ্চলে উগ্ৰবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি কর্তৃক পরিচালিত একটি গোপন কারাগারে দুইজন পাঁচ বছর বয়সী রোহিঙ্গা শিশু মৃত্যুবরণ করেছে। এছাড়া, হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও বৃদ্ধ সেখানে আটক রয়েছেন, যাদের উপর চালানো হচ্ছে অবর্ণনীয় নির্যাতন।
ভয়েস অফ আরাকান সূত্রে জানা গেছে, আটক নারীদের অনেককে যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। পুরুষদের জোরপূর্বক শ্রমিক হিসেবে কৃষি, কাঠকাটা, রাস্তা নির্মাণ ও সামরিক ঘাঁটি তৈরিতে বাধ্য করা হচ্ছে। বৃদ্ধ রোহিঙ্গা নারীরাও এই নির্যাতন থেকে রেহাই পাচ্ছেন না।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নারী ও কিশোরীদের রাতভর ধর্ষণের পর সকালে ঝোপ-ঝাড় বা নদীর পাড়ে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। শিশুদের পর্যন্ত আরাকান আর্মির নিষ্ঠুরতা থেকে রেহাই নেই। কারাগারে অবরুদ্ধ অবস্থায় অনাহার ও নির্যাতনের কারণে ইতিমধ্যে দুইজন পাঁচ বছর বয়সী শিশু নিহত হয়েছে।
রাখাইন অঞ্চলের এই ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নিরবতা আশঙ্কাজনক। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বরাবরের মতো শুধু “উদ্বেগ প্রকাশ” ছাড়া কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। মিয়ানমারের জান্তা সরকারও আরাকান আর্মির এই অত্যাচারকে প্রশ্রয় দিচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলোর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আরাকান আর্মির এই নৃশংসতা পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গা মুসলিম জাতিসত্তা ধ্বংসের জন্য গণহত্যার ধারাবাহিকতা। ২০১৭ সালের ভয়াবহ রোহিঙ্গা নিধনের পর, বর্তমানে মংডুতে নতুন করে ধীরে ধীরে নির্বিচারে হত্যা ও নিপীড়ন চালানো হচ্ছে, যাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজর কম পড়ে।
রোহিঙ্গা অধিকারকর্মীরা বিশ্ববাসীকে এই বর্বরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন,
“যদি আজ আমরা চুপ থাকি, তাহলে আরাকান আর্মি আরও হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী-শিশুকে হত্যা ও ধর্ষণ করবে। মানবতার পক্ষে দাঁড়ানো এখনই প্রয়োজন।”
সূত্র: ভয়েস অফ আরাকান