বুথিডং, রাখাইন রাজ্য | ১৭ মে ২০২৪
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বুথিডং শহরে ২০২৪ সালের ১৭ মে রাতে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (AA) পরিচালিত একটি পরিকল্পিত ও সহিংস হামলায় অন্তত ৪৫ জন রোহিঙ্গা মুসলমান নিহত হয়েছেন। হামলায় শহরের অধিকাংশ অংশ পুড়িয়ে ধ্বংস করে দেওয়া হয়, যার ফলে প্রায় ২০০,০০০ রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়ে।
স্থানীয় সময় রাত ৯:৩০ মিনিটে শহরের উত্তরাংশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, যখন বাসিন্দারা দেখতে পান আরাকান আর্মির বাহিনী শহরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং বাড়িঘরে আগুন দিচ্ছে। মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যে, রাত ১০টার দিকে, দক্ষিণ বুথিডংয়ে AA বাহিনী পেট্রোল-ভেজানো কাঠ ও দাহ্য পদার্থ দিয়ে একযোগে ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ শুরু করে।
হাজার হাজার রোহিঙ্গা আতঙ্কে শহরের কেন্দ্রীয় হাসপাতালে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু হাসপাতালটিও আক্রমণের শিকার হয়ে আগুনে পুড়ে যায়, ফলে আহত ও অসহায় লোকজন প্রাণ হারান আগুন ও ধোঁয়ার মধ্যে।
এই ভয়াবহ হামলার ফলে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। প্রায় দুই লক্ষ বাস্তুচ্যুত মানুষ খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধের অভাবে ভুগছে, যাদের অধিকাংশ বর্তমানে উন্মুক্ত স্থানে অথবা অস্থায়ী ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের অফিস (OHCHR) জানিয়েছে, বুথিডং ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় এই হামলা ছিল সুপরিকল্পিত এবং বেসামরিক জনগণের ওপর সরাসরি পরিচালিত। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,
“বেসামরিক নাগরিকদের বাড়িঘর ও সরকারি ভবনে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন দেওয়া হয়েছে, বেছে বেছে গুলি চালানো হয়েছে, নির্যাতন ও যৌন সহিংসতা চালানো হয়েছে।“
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ২০১৭ সালের রোহিঙ্গা গণহত্যার পুনরাবৃত্তি এবং এর দায় আরাকান আর্মি এড়াতে পারে না। বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা রোহিঙ্গাদের রাখাইন রাজ্য থেকে সম্পূর্ণভাবে উৎখাত করার একটি ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ।
বুথিডংয়ের ১৭ মে’র হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এখনও চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।