মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরান ইতোমধ্যেই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ১১ ধাপে হামলা চালিয়েছে, যেখানে ব্যবহার করা হয়েছে ৩৭০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১০০টির বেশি সামরিক ড্রোন। ইরানি প্রতিরক্ষা সূত্র দাবি করেছে, এটি ছিল প্রতিরোধমূলক প্রতিশোধ এবং হামলার মাত্রা এখনো সীমিত পর্যায়ে রাখা হয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই হামলায় এখন পর্যন্ত শুধু পুরোনো মডেলের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, এবং “শক্তিশালী অস্ত্র” এখনো ব্যবহার করা হয়নি। ইরানি বিপ্লবী গার্ডের এক শীর্ষ পর্যায়ের মুখপাত্র বলেন, “যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে আমাদের পরবর্তী ধাপে নতুন ও আরও কার্যকর অস্ত্র ব্যবহৃত হবে।”
অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, এই অভূতপূর্ব হামলায় তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যেমন Iron Dome, David’s Sling ও Arrow কার্যকরভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। যদিও কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে, বেশিরভাগই মাঝপথেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় মোতায়েন করা THAAD ও Patriot ইউনিটও ব্যবহৃত হয়েছে প্রতিরক্ষায়।
এই সংঘাতে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং G7 দেশগুলো দু’পক্ষকে অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে। তবে এখনো দুই দেশই নিজেদের অবস্থানে অনড়। ইরান এই হামলাকে “সুনির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা কর্মসূচি” হিসেবে বর্ণনা করেছে, যেখানে ইসরায়েল পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য আবারও এক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি। ভবিষ্যৎ সংঘর্ষ কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা নির্ভর করছে পরবর্তী কূটনৈতিক বা সামরিক প্রতিক্রিয়ার ওপর।