পশ্চিমা বিশ্ব এবং আঞ্চলিক প্রতিপক্ষদের চাপ ও সন্দেহের প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুড পেজেশকিয়ান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তেহরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। সোমবার (১৬ জুন) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আমাদের দেশের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং আমাদের কোনো পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা নেই।”
এই বিবৃতি এমন এক সময় এলো, যখন ইসরায়েল, সৌদি আরব এবং পশ্চিমা শক্তিগুলো ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। অনেক আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, ইরান ৬০ শতাংশের বেশি মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে যা পরমাণু অস্ত্র তৈরির দিকে অগ্রসর হওয়ার সংকেত হতে পারে। তবে ইরান বরাবরের মতোই দাবি করে আসছে, এটি শুধুমাত্র বৈদ্যুতিক চুল্লি ও চিকিৎসাব্যবস্থার প্রয়োজনে ব্যবহৃত হবে।
ইরানের প্রেসিডেন্টের এ বক্তব্যের পেছনে কূটনৈতিক কৌশল স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা এবং ইসরায়েলের বারবারের সামরিক হুমকি মোকাবিলা করতেই ইরান এই অবস্থান নিয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেয়ীর পূর্বঘোষিত ফাতওয়ার কথাও তুলে ধরেন, যেখানে পরমাণু অস্ত্রকে ইসলামি নীতিমালার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করা হয়।
এই অবস্থান ইরানের পক্ষ থেকে একটি কৌশলগত বার্তা: তারা চায় পরমাণু প্রযুক্তিতে অগ্রগতি ধরে রাখতে, আবার আন্তর্জাতিক মিত্রতা ও চাপের ভারসাম্যও বজায় রাখতে। অর্থাৎ, ইরান এমন এক অবস্থান নিতে চায়, যেখানে তারা প্রযুক্তিগতভাবে শক্তিশালী থাকবে কিন্তু কূটনৈতিকভাবে শান্তিপূর্ণ বলে প্রতিভাত হবে।
সূত্র:
🔗 Reuters – Iranian president says Tehran does not seek nuclear weapons
🔗 Al Jazeera – Iran says it has no intention to develop nuclear weapons
🔗 DW – Iran denies intent to build nuclear arms