সেন্টমার্টিন, কক্সবাজার | ৩১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে জারি থাকা সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে চরম মানবিক সংকটে পড়েছেন দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দারা। সরকার পরিবেশ রক্ষার কথা বলে পর্যটনসহ সব ধরনের প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, যার ফলে দ্বীপের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি একপ্রকার বন্ধ হয়ে গেছে।
দীর্ঘ তিন মাস ধরে বন্ধ রয়েছে পর্যটক আগমন। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন হোটেল-কর্মী, রেস্তোরাঁ মালিক, জেলে, নৌকার মাঝিসহ প্রায় দুই হাজার স্থানীয় বাসিন্দা। অধিকাংশ পরিবার এখন জীবিকা নির্বাহে হিমশিম খাচ্ছে। দ্বীপে খাবারের সংকটে না খেয়ে মরছে গৃহপালিত কুকুর, বিড়াল এমনকি বনের কাক ও অন্যান্য প্রাণীও।
স্থানীয়দের অভিযোগ, “পরিবেশ রক্ষার” যুক্তি তুলে ধরলেও এই নিষেধাজ্ঞা আরোপে নেই কোনো কার্যকর কৌশল বা সমন্বয়। এমনকি, দ্বীপবাসীর আত্মীয়স্বজনকেও ‘বিশেষ অনুমতি’ ছাড়া প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। স্থানীয় প্রশাসনের জারি করা নিয়মে কঠোরতা থাকলেও, বাস্তবতার নিরিখে তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অমানবিক হয়ে উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমরা পরিবেশ ধ্বংস করছি না, বরং এই দ্বীপকে বাঁচিয়ে রেখেছি যুগের পর যুগ। এখন আমাদেরই এখানে বন্দি করে রাখা হয়েছে, অথচ কোনো বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করা হয়নি।”
অনেকেই মনে করেন, মিডিয়া এবং কিছু পরিবেশবাদী গোষ্ঠীর অতিরঞ্জিত তথ্য এবং প্রোপাগান্ডার ফলেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাস্তব পরিস্থিতি না বুঝেই দ্বীপটিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবী, অবিলম্বে পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। পাশাপাশি, প্রকৃত পরিবেশ রক্ষায় দ্বীপবাসীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।