প্রতিবেদন:
২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে মোট ৩৩২ জন নারী ও কন্যা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১১১ জন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে। রোববার (৪ মে) মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনটি সংগঠনের কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদ কর্তৃক ১৫টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এতে জানানো হয়, ১৬৯ জন কন্যা ও ১৬৩ জন নারীসহ মোট ৩৩২ জন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
ধর্ষণ:
- মোট ধর্ষণের শিকার: ১১১ জন
- এর মধ্যে ৮৩ জন কন্যা
- ২৪ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার, যার মধ্যে ১৬ জন কন্যা
- ৫ জনকে ধর্ষণের পর হত্যা, এর মধ্যে ১ জন কন্যা
- ধর্ষণের কারণে আত্মহত্যা করেছে ২ জন কন্যা
- ধর্ষণের চেষ্টা: ২৯ জন, যার মধ্যে ২২ জন কন্যা
অন্যান্য নির্যাতন:
- যৌন নিপীড়ন: ১২ জন, এর মধ্যে ১০ জন কন্যা
- উত্ত্যক্তের শিকার: ৪ জন কন্যা
- বিভিন্ন কারণে হত্যা: ৬০ জন, যার মধ্যে ১৫ জন কন্যা
- রহস্যজনক মৃত্যু: ২৪ জন (৫ জন কন্যাসহ)
- আত্মহত্যা: ২৪ জন (৬ জন কন্যাসহ), আত্মহত্যার প্ররোচনার শিকার ২ জন
- অগ্নিদগ্ধ: ২ জন, মৃত্যু ১ জন
- যৌতুকের কারণে নির্যাতন: ১২ জন, এর মধ্যে ৩ জনকে হত্যা
- শারীরিক নির্যাতন: ১৭ জন, যার মধ্যে ৪ জন কন্যা
- পারিবারিক সহিংসতায় শারীরিক নির্যাতন: ৩ জন
- গৃহকর্মী হত্যা: ২ জন
- অপহরণ: ৯ জন, এর মধ্যে ৭ জন কন্যা
- অপহরণের চেষ্টা: ২ জন কন্যা
- সাইবার অপরাধের শিকার: ১ জন
- বাল্যবিবাহের চেষ্টা: ৪টি ঘটনা
- অন্যান্য নির্যাতন: ১০ জন (২ জন কন্যাসহ)
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ জানিয়েছে, নারী ও কন্যাশিশুদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ভূমিকা এখন সময়ের দাবি। তারা জোর দিয়েছেন আইন প্রয়োগে কঠোরতা ও বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্নের ওপর।