ঢাকা, ৫ মে ২০২৫ — ইসলামি মূল্যবোধ ও নারী মর্যাদার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে নতুন চেহারায় আত্মপ্রকাশ করা একটি তথাকথিত প্রগতিশীল দল, ন্যাশনাল চেঞ্জ পার্টি (এনসিপি)। দলটির তিন নারীনেত্রী—সৈয়দা নীলিমা দোলা, দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী এবং নীলা আফরোজ—হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়ে মুসলিম জনতার মাঝে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছেন।
হেফাজতে ইসলাম, যা দীর্ঘদিন ধরে দেশের ইসলামপ্রিয় জনতার ধর্মীয় অধিকার রক্ষায় কাজ করে আসছে, তাদের বিরুদ্ধে এই ধরনের আক্রমণ নতুন কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ কি না, সে প্রশ্ন এখন উঠছে সর্বত্র।
বিবৃতিতে তিন নেত্রী দাবি করেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের পর নারীদের নিপীড়নের সুযোগ নেই”, অথচ তারাই ইসলামের বিধান অনুযায়ী নারীকে যে সম্মান ও অধিকার দেওয়া হয়েছে, তার বিরুদ্ধাচরণ করছেন।
হেফাজতের ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে,
“নারীকে সম্মান দেওয়া ইসলামের শিক্ষা। কিন্তু সেই নারীর নামে যদি ধর্মীয় বিধানকে কটাক্ষ করা হয়, ইসলামের মূলনীতির বিরুদ্ধাচরণ করা হয়—তাহলে তা মেনে নেওয়া যায় না। এই তথাকথিত নেত্রীরা মূলত পশ্চিমা সংস্কৃতির ধারক, যারা ইসলামি সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক ভয়ঙ্কর সামাজিক আগ্রাসন চালাচ্ছেন।”
এনসিপির বিবৃতিতে প্রশ্ন তোলা হয়, “হেফাজতের নেতারা কী তাদের নারীদের সম্পত্তি দিয়েছেন?”—যা সরাসরি ইসলামি শরিয়া আইন নিয়ে কটাক্ষ। অথচ মুসলিম সমাজ জানে, শরিয়া অনুযায়ী উত্তরাধিকার সম্পূর্ণভাবে স্বীকৃত এবং হেফাজতের কোনো অবস্থান তাতে বিরোধী নয়।
এদিকে, এনসিপির পক্ষ থেকে উম্মে রায়হানা, উম্মে ফারহানা ও ক্যামেলিয়া শারমিন চূড়াকে তথাকথিত “ভ্রষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব” বলার প্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠেছে—এই তিনজনই বহুদিন ধরে ইসলামবিদ্বেষী ও ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের জন্য পরিচিত।
মুসলিম জনতা স্পষ্ট করে বলছেন:
“এই নোটিশ ইসলাম নয়, ইসলাম বিদ্বেষের দলিল। হেফাজতের মতো একটি ধর্মভিত্তিক সংগঠনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে তারা প্রমাণ করেছে, তাদের উদ্দেশ্য ধর্ম নয়, ধর্মকে অপমান করা।”
অনেকে বলছেন, নতুন বাংলাদেশের নামে যদি ইসলামবিরোধী মতাদর্শ ও নারীবাদের নামে ধর্মীয় আচারকে আঘাত করা হয়, তবে মুসলিম সমাজ তা মেনে নেবে না।
ইসলামের পক্ষে থাকা মানেই নারীবিরোধিতা নয়—বরং ইসলামই একমাত্র ধর্ম যেখানে নারীর মর্যাদা নিশ্চিত করা হয়েছে।