২২ মে ২০২৫ | নিজস্ব প্রতিবেদন
বাংলাদেশে ধর্ম অবমাননার মামলায় রাষ্ট্রীয় বিচার ব্যবস্থার ব্যর্থতা আজ এক নতুন সংকেত দিচ্ছে— ইসলাম ও ঈমান রক্ষায় শরিয়া আইনের প্রয়োজনীয়তা যেন এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
সম্প্রতি রাখাল রাহা নামক একজন ব্যক্তি, যিনি আসল পরিচয়ে সাজ্জাদূর রহমান, আল্লাহ এবং পবিত্র তাহাজ্জুদ নামাজ নিয়ে প্রকাশ্যে কটূক্তি ও অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করেন। এই ঘৃণ্য স্ট্যাটাস সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দেয়।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩-এর ২৮ ও ৩১ ধারায় আমরা রাখাল রাহার বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করি।
কিন্তু সম্প্রতি সরকার কর্তৃক ঘোষিত ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫’-এর ৫০(৪) ধারা অনুযায়ী, পূর্ববর্তী ধর্ম অবমাননার অপরাধ সংক্রান্ত ধারা সমূহ বাতিল করা হয়েছে। এর অর্থ হলো— এখন থেকে কেউ ইসলাম, কুরআন, রসূল (সা.) কিংবা কোনো ইবাদত নিয়ে ব্যঙ্গ বা গালি করলেও, তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো ধরনের বিচার পাওয়া যাবে না।
আজ ছিলো মামলার শুনানি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট আইনি ধারাগুলোর বিলুপ্তি দেখিয়ে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন। এতে অসংখ্য ধর্মপ্রাণ নাগরিকের হৃদয়ে গভীর আঘাত ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
এটা নিছক একটি মামলা খারিজ নয়— এটা ধর্মের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের আত্মসমর্পণের একটি পরিষ্কার দৃষ্টান্ত।
এখন সময় এসেছে প্রশ্ন তোলার:
যদি রাষ্ট্র আমাদের ঈমান রক্ষা করতে না পারে, তাহলে কি শরিয়া আদালতের দিকে অগ্রসর হওয়া আমাদের ঈমানী দায়িত্ব নয়?
যখন রাষ্ট্র বিচার দিতে অক্ষম হয়, তখন জনতার ঈমানী আবেগ নিজেই পথে নামে।
আজকের ঘটনাটি প্রমাণ করে দিয়েছে—
“আদালতের দরজা যখন বন্ধ হয়ে যায়, তখন শরিয়া আদালতের প্রয়োজনীয়তা অনিবার্য হয়ে ওঠে।”
হাইলাইট করা অংশসমূহ: