নিজস্ব প্রতিবেদন, ২৯মে ২০২৫
টানা বৃষ্টি ও মেঘনা নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ২০টি গ্রাম পানিতে ডুবে গেছে। আজ ২৯ মে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করলে নিম্নাঞ্চলে প্লাবনের সৃষ্টি হয়।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌরুটের ফেরি-লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি মেঘনার অস্বাভাবিক জোয়ারে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে দুর্ভোগ তৈরি করেছে।
কমলনগর উপজেলার কালকিনি, সাহেবের হাট, পাটওয়ারীর হাট, চর ফলকন, চর মার্টিন ও চর লরেঞ্চ ইউনিয়ন, এবং রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার, বড়খেরী, চর গাজী ও চর আবদুল্লাহ ইউনিয়নের বহু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। জোয়ারের পানিতে রাস্তাঘাট, বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও নিচু ঘরগুলো তলিয়ে গেছে।
কমলনগরের চরমার্টিন এলাকায় সড়ক ভেঙে পানি ঢুকে পড়েছে লোকালয়ে, জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মাতাব্বর হাট এলাকায় ৩ কিলোমিটার তীর রক্ষা বাঁধ উত্তাল ঢেউয়ের কারণে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ৩১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের এই অংশে যেকোনো সময় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দুই শতাধিক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে, হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন অনেকে। রান্নাবান্না ও দৈনন্দিন কাজে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ-জামান জানান, বাঁধের কাজে এখনো তেমন সমস্যা হয়নি, তবে কোথাও সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক রাজীব কুমার সরকার বলেন, “রামগতি ও কমলনগরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে এবং ২৮৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত, এছাড়া ৬৪টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “মেঘনায় ভাটার সময় পানি নামলেও জোয়ার আসলে পরিস্থিতি আবার জটিল হয়ে পড়ছে। বন্যার আশঙ্কা আপাতত না থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”