গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী “মাদার অফ টেরোরিস্ট” শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বিচারিক কার্যক্রমে তার বিরুদ্ধে ১৩টি ভলিউমে সাড়ে আট হাজার পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়, যার মধ্যে অল্প কিছু পৃষ্ঠা পাঠ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ২৮টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই অভিযোগগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো: মানারাত ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাকিল হোসেনের গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু। ভ্যানচালক জসিম উদ্দিনের গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু। ময়মনসিংহের ধোবাউড়ার শাহজাহানের গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু ও গুলশান কমার্স কলেজের শিক্ষার্থী রায়হানের গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু। এই অভিযোগগুলোর মধ্যে শেখ হাসিনার পাশাপাশি তার মন্ত্রিসভার সদস্য, পুলিশ ও র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। আসামিদের মধ্যে শেখ রেহানা, সজীব ওয়াজেদ জয়, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, জুনায়েদ আহমেদ পলক, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল মামুন, সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ, সাবেক র্যাব ডিজি হারুন অর রশিদ প্রমুখ রয়েছেন। চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং মার্চের মধ্যে তা দাখিল করা সম্ভব হতে পারে। এই প্রতিবেদনে জাতিসংঘের রিপোর্টসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩ অনুযায়ী, তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশন বিভাগে দাখিলের পর তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিফ প্রসিকিউটর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করবেন। এরপর ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন করে বিচারিক কার্যক্রম শুরু করবে। শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আসামি পলাতক থাকলে ট্রাইব্যুনাল আইনের দৃষ্টিতে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দেবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাজির না হলে অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ শুরু করার নির্দেশ দেবে।