বৃহস্পতিবার | TBN desk |
ঢাকা: মহিলা ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস. মুরশিদ সম্প্রতি এক আলোচনায় বলেছেন, মোবাইল ব্যবহারের মতো পর্নোগ্রাফি দেখারও একটি নির্দিষ্ট বয়স নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, বর্তমান তরুণ প্রজন্ম রাজনীতি, মাদক ও পর্নোগ্রাফির কারণে সঠিকভাবে গড়ে উঠতে পারছে না। নারী নির্যাতন রোধেও এই সবকিছু অন্যতম বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। সচেতন নাগরিক সমাজ প্রশ্ন তুলেছেন — রাষ্ট্র কি তাহলে ইচ্ছাকৃতভাবে পর্নোগ্রাফি বন্ধ করছে না? একদিকে সরকার পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে আইন করেছে, অন্যদিকে পর্নো দেখার “নির্ধারিত বয়স” নির্ধারণের প্রস্তাব দেয়ার মানে কি সেটিকে বৈধভাবে মেনে নেয়ার প্রস্তুতি?
দ্বিচারিতা নয় কি এটি? — এমন প্রশ্ন ছুড়েছেন নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা অনেকে। তাঁদের ভাষ্য, “যে বস্তুই বেআইনি বা সমাজবিরোধী, তার জন্য বয়স নির্ধারণ করা মানেই সেটিকে গ্রহণযোগ্যতার আওতায় আনা। রাষ্ট্র একদিকে পর্নো নিয়ন্ত্রণ আইন করে আবার অন্যদিকে সেই অপসংস্কৃতিকে নিয়ন্ত্রণে না এনে বয়স নির্ধারণের কথা বলে নিজেই নিজেকে ধোঁকা দিচ্ছে।”
অনেকেই মনে করছেন, এই ধরনের বক্তব্য মূল সমস্যাকে পাশ কাটিয়ে এক ধরনের ‘নৈতিক দ্বিচারিতা’ চালু করছে। রাষ্ট্র যদি সত্যিই নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও কিশোর অপরাধ রোধে আন্তরিক হতো, তাহলে ইন্টারনেট থেকে পর্নোগ্রাফি পুরোপুরি বন্ধ করার দিকে পদক্ষেপ নিত।