মেট্রোর পিলারে ‘শাহবাগী চেতনা’র পুনরুত্থান? ইসলামবিদ্বেষী ব্লগারদের সম্মানে ম্যুরাল অংকন নিয়ে ক্ষোভের ঝড়
ঢাকার কারওয়ান বাজার থেকে ফার্মগেটের পথে মেট্রো রেলের ৪৬৪ নম্বর পিলারে সম্প্রতি একটি বিতর্কিত ম্যুরাল আঁকা হয়েছে, যেখানে ২০১৩ সালের শাহবাগ আন্দোলনের স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়াস দেখা যাচ্ছে। কিন্তু এই ম্যুরাল নতুন করে বহু ইসলামপ্রিয় নাগরিকের মনে ক্ষোভের আগুন জ্বেলে দিয়েছে।
শাহবাগ আন্দোলনের পেছনের অন্ধকার ইতিহাস
২০১৩ সালে শাহবাগ চত্বরে শুরু হওয়া আন্দোলনটি প্রথমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে শুরু হলেও দ্রুতই ইসলামবিদ্বেষী রূপ ধারণ করে।
এই আন্দোলনকে ঘিরে তখনকার প্রজন্মের একটি অংশ ধর্মবিদ্বেষে অন্ধ হয়ে পড়ে, প্রকাশ্যে রাসূল সা.-এর প্রতি কটূক্তি করে, সমকামিতার প্রচার চালায়, ইসলামী আদর্শকে তুচ্ছ করে নাস্তিক্যবাদী ব্লগচক্র গড়ে তোলে।
এই আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি ছিল এমন কিছু ব্লগার যারা ইসলামের প্রতি চরম বিদ্বেষমূলক লেখা ছড়িয়ে দিয়েছিল— যারা আজ ইতিহাসে ‘শাতিমুর রাসূল’ বা রাসূল অবমাননাকারী হিসেবে চিহ্নিত। এদের কেউ কেউ গন্তব্যে পৌঁছে গেছে, বাকিদের বিচার আল্লাহর হাতে।
ম্যুরাল অংকনের রাজনৈতিক বার্তা কী?
এই পরিস্থিতিতে আবার সেই একই ‘জুলাইয়ের চেতনা’কে স্মরণ করে ম্যুরাল আঁকা কি ইসলামবিদ্বেষী ব্লগারদের প্রতি একরকম শ্রদ্ধা জানানো নয়?
যেখানে শাহবাগ আন্দোলনের নামেই ইসলামপন্থীদের উপর বছর বছর ফ্যাসিবাদী দমন চালানো হয়েছে, বানোয়াট ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে আইনের দোহাই দিয়ে দাওয়াতি তৎপরতা বন্ধ করা হয়েছে, সেখানে এই ম্যুরাল কী উদ্দেশ্যে আঁকা হচ্ছে?
ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী নকশার ছায়া
বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন, শাহবাগ আন্দোলন ছিল দক্ষিণ এশিয়ায় হিন্দুত্ববাদী চিন্তার এক সাংস্কৃতিক অস্ত্র। হাসিনা সরকারের তৎকালীন নীতিতে ভারতের প্রভাব এবং এই আন্দোলনে তাদের গোয়েন্দা ভূমিকা আজ আর গোপন নেই।
তাহলে প্রশ্ন উঠে— এই ম্যুরাল অংকনের মাধ্যমে কী আবার সেই ভারতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসনেরই বৈধতা তৈরি করা হচ্ছে?
জনমত ও প্রতিবাদ নবজাগ্রত ইসলামপ্রিয় তরুণরা তাই সোচ্চার হয়েছেন। অনেকেই দলবেঁধে সেই ম্যুরাল মুছে ফেলার ঘোষণা দিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে একটি স্লোগান ছড়িয়ে পড়েছে: “ফাঁসি, ফাঁসি, ফাঁসি চাই, নাস্তিকদের ফাঁসি চাই!”
বলা যায়, এই ম্যুরাল শাহবাগী চেতনার পুনর্জাগরণ নয়, বরং তা ইসলামবিদ্বেষী এক ভণ্ড রাজনীতির পুনর্জন্ম— যা দেশের ঈমানদার জনগণ কখনোই মেনে নেবে না।
প্রতিরোধই মুক্তি এই রাষ্ট্রযন্ত্র বারবার ইসলামের বিরুদ্ধে কলম ও কণ্ঠ রুদ্ধ করতে ব্যস্ত। কিন্তু একথা ভুলে গেলে চলবে না— “ইসলামের বিরুদ্ধে যতই চক্রান্ত হোক, বাতিলের চেয়ে হকের শক্তি সবসময় বড়।” আজ সময় এসেছে, শহরের দেয়ালেও ‘শাহবাগী নাস্তিকতা’ নয়— বরং “ইসলামি চেতনার প্রতীক শাপলা” ফিরিয়ে আনার।