ঢাকা, ১৯ জুলাই ২০২৫: ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের অফিস স্থাপনের চুক্তি বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
সংগঠনটির আমীর আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী এবং মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান আজ এক বিবৃতিতে বলেন, সরকার যদি অবিলম্বে এই চুক্তি বাতিল না করে, তবে ওলামায়ে কেরাম কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।
বিবৃতিতে তারা বলেন, দেশের আলেমসমাজ ও ইসলামী দলগুলোর টানা প্রতিবাদ ও উদ্বেগ সত্ত্বেও সরকার একতরফাভাবে চুক্তিতে সই করেছে, যা জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে গৃহীত হয়েছে। তারা আরও বলেন, “মার্কিন স্বার্থে পরিচালিত জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের অফিস এদেশে স্থাপন করা যাবে না। এটি আমাদের নীতিগত অবস্থান।”
হেফাজত নেতারা উল্লেখ করেন, সাধারণত যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোতেই জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস স্থাপিত হয়।
বাংলাদেশ কোনো যুদ্ধপীড়িত দেশ নয়, অথচ এখানে অফিস স্থাপনের উদ্যোগ রহস্যজনক বলে মন্তব্য করেন তারা। এ বিষয়ে তারা বলেন, “জুলাই বিপ্লবের দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে জাতিসংঘের কোনো অফিসের প্রয়োজন নেই। অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত সময় নষ্ট না করে এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করা।”
বিবৃতিতে হেফাজত নেতৃবৃন্দ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অতীতে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি সংস্থা ইসলামী শরিয়া, মুসলিম পারিবারিক আইন এবং ধর্মীয় মূল্যবোধে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করেছে।
নারী সংস্কার কমিশনের সুপারিশ এবং এলজিবিটি ইস্যু প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারা বলেন, এসব বিষয় জাতিসংঘের মানবাধিকার নীতির অন্তর্ভুক্ত, যা দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
তারা আরও জানান, সম্প্রতি এক সমকামী ব্যক্তিকে জাতিসংঘের দূত হিসেবে নিয়োগ দেয়ার খবর আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামকে ঘিরে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ও এলজিবিটি সম্প্রদায়ের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারা বলেন,
“জাতিসংঘের কার্যালয় স্থাপন হলে তা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও ধর্মীয় সমাজব্যবস্থার ওপর সরাসরি হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।”
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে হেফাজতের নেতারা অভিযোগ করেন,
“জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন তখন কোনো বিবৃতি দেয়নি। বরং ফ্যাসিস্ট সরকারের কথিত জঙ্গি নাটকের আড়ালে ইসলামপন্থীদের ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে, যেগুলোর প্রতি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নিরবতা ছিল লক্ষণীয়।”
বিবৃতির শেষ অংশে হেফাজতের নেতারা বলেন, “ফিলিস্তিনেও গত ৩০ বছর ধরে জাতিসংঘের অফিস থাকা সত্ত্বেও কোনো কার্যকর ফল আসেনি। তাই বাংলাদেশে নতুন কোনো যুদ্ধক্ষেত্র তৈরির ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন হতে দেয়া হবে না, ইনশা-আল্লাহ।”
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অবিলম্বে জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস স্থাপন সংক্রান্ত চুক্তি বাতিলের আহ্বান জানানো হয়
এবং তা না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।
সূত্রঃ অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ – হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ