যেখানে রাষ্ট্রের দায়িত্ব নাগরিকদের নিরাপত্তা, সেবা ও দুর্যোগকালে পাশে দাঁড়ানো — সেখানে আজকের বাংলাদেশ সরকার যেন নিজেই জনগণের কাছে হাত পাতছে।
সম্প্রতি রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিমান বিধ্বস্ত ঘটনায় শতাধিক ছাত্র নিহত ও আহত হলেও, সেই পরিবারগুলোকে সরাসরি সহায়তা না দিয়ে বরং প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে সামাজিক মাধ্যমে একাউন্ট নম্বর দিয়ে অর্থ সাহায্যের আবেদন জানানো হয়েছে!
এ যেন রাষ্ট্র নয়, ভিক্ষুকের ভূমিকায় প্রশাসন।
অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকেই গত মাসে নারী ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমিন মোর্শেদ বিতর্কিতভাবে যৌনকর্মীদের জন্য অনুদান দিয়েছেন ২ কোটি টাকা!

তাহলে প্রশ্ন জাগে, একটি রাষ্ট্রের টাকায় পতিতালয়ের উন্নয়ন হয়, কিন্তু মেধাবী ছাত্রদের লাশ পড়ে থাকলে সেখানে সরকারের টাকায় নয়—জনগণের টাকায় সহায়তার আবেদন জানানো হয়?
এটাই কি “উন্নয়নশীল” রাষ্ট্রের চিত্র? রাষ্ট্রীয় বাজেট কাদের জন্য? যেসব ছাত্রই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, তাদের জন্য বরাদ্দ কোথায়?
হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মৃত্যু হলে সেটা “ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা”, কিন্তু যৌনপল্লির দুরাবস্থায় তা হয় “জাতীয় দায়িত্ব”?
এই সব প্রশ্নের জবাব রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারকদের কাছে না থাকলেও, জনগণের কাছে তা খুবই পরিষ্কার:
এই রাষ্ট্র জনগণের নয়, এক শ্রেণির সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর জন্য কাস্টমাইজড।
দেশপ্রেমের আড়ালে চলছে সুনিপুণ অবহেলা।
এই মুহূর্তে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচিত— অবিলম্বে দায়িত্ব গ্রহণ না করে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করা।
জনগণের করের টাকার স্বচ্ছ ও ন্যায্য ব্যবহার নিশ্চিত করা।
মেধাবী শিক্ষার্থী ও শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, মুখে নয় কাজে।