দিনাজপুর জেলার এক প্রাপ্তবয়স্ক যুবক সম্প্রতি স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। কিন্তু ধর্মান্তরের পর থেকেই তিনি চরম সামাজিক ও পারিবারিক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হন বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় প্রভাবশালী একাধিক ব্যক্তি মিলে তাকে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন।
স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, নবধর্মান্তরিত ওই যুবক বারবার তার ঈমানের প্রতি অবিচল থাকায়, তার ওপর চাপ প্রয়োগ করেও কোনো পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে সম্প্রতি তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। তার পরিবার ও প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে তাকে গুম করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, তাকে পাশের একটি দেশে পাচারের চেষ্টা চলছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া না গেলেও, সংশ্লিষ্ট মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো সুনির্দিষ্ট বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে মানবাধিকারকর্মী এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করা সংগঠনগুলো বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার আহ্বান জানিয়েছে।
নওমুসলিমদের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবিতে সচেতন নাগরিক সমাজ সোচ্চার হয়েছে। তারা বলেন, “সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের একটি দেশে যদি একজন নওমুসলিমও নিরাপদ না থাকেন, তাহলে তা গোটা জাতির জন্য লজ্জার বিষয়।”
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো হয়েছে— যুবকটির নিরাপদ সন্ধান নিশ্চিত করা হোক এবং যদি গুম বা পাচারের মতো ঘটনা ঘটে থাকে, তবে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
বিষয়টি নিয়ে তড়িৎ পদক্ষেপ ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ধর্মীয় নেতারাও।