ঢাকা | ইসলামি শিক্ষার অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত আলিয়া মাদ্রাসাগুলোর পাঠ্যবইয়ে সাহাবায়ে কেরামের (রা.) বিরুদ্ধে অবমাননাকর ও বিতর্কিত ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি নবম-দশম শ্রেণির ‘ইসলামের ইতিহাস’ বইয়ে হযরত মুয়াবিয়া (রা.), হযরত আমর ইবনুল আস (রা.) সহ কয়েকজন সম্মানিত সাহাবী সম্পর্কে ব্যবহৃত ভাষা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বইটিতে হযরত মুয়াবিয়া (রা.)-কে “চক্রান্তকারী, উচ্চাভিলাষী, ক্ষমতালোভী, জঙ্গি, শঠ ও কপট” বলা হয়েছে। অন্যদিকে, হযরত আমর ইবনুল আস (রা.)-কে উল্লেখ করা হয়েছে “ধূর্ত, হঠকারী, বিশ্বাসঘাতক, শঠ ও চক্রান্তকারী” হিসেবে। ইসলামি ইতিহাসে সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদা অমসৃণভাবে প্রতিষ্ঠিত হলেও, এসব বর্ণনা পাঠ্যবইয়ে কীভাবে স্থান পেল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইসলামি চিন্তাবিদ ও সাধারণ ধর্মপ্রাণ জনগণ।
জাহিদুল ইসলাম নামের এক নাগরিক বলেন, “এই ধরনের বই পড়ে যারা বড় হবে, তারা কি সাহাবাদের ভালোবাসতে পারবে? বরং তারা সাহাবা বিদ্বেষী হয়ে উঠবে। এটা গভীর ষড়যন্ত্র কিনা, তা খতিয়ে দেখা উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “যে পাঠ্যবইতে সাহাবাদের নিয়ে এমন ভাষা ব্যবহার করা হয়, সেই প্রতিষ্ঠান থেকে ইসলাম-বিদ্বেষী প্রজন্মই বের হয়ে আসবে, সাহাবা-ভক্ত নয়।”
বইটির আরও কিছু অংশে দেখা যায়, খলিফা আবু বকর (রা.), ওমর (রা.) প্রমুখ সাহাবাদের গণতন্ত্রের ধারক হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে, যা অনেক ইসলামী মনীষীর দৃষ্টিতে পশ্চিমা রাজনৈতিক মতবাদের সঙ্গে ইসলামী শাসনব্যবস্থাকে মিলিয়ে ফেলার একটি সচেতন প্রচেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে।
ইসলামি শিক্ষাবিদরা বলছেন, ইতিহাস বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা দেওয়া এক কথা, আর ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে নিন্দা বা বিদ্বেষমূলক ভাষা প্রয়োগ সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, অবিলম্বে এসব বিতর্কিত অংশ পাঠ্যসূচি থেকে বাদ দিয়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতার আওতায় আনা হোক। পাশাপাশি, পাঠ্যবই রচনার ক্ষেত্রে আলেম সমাজ ও ইসলামি চিন্তাবিদদের সঙ্গে পরামর্শের ভিত্তিতে কাজ করার দাবিও উঠেছে।