ঢাকা, ৫ মে ২০২৫ — বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)। “জুলাই অভ্যুত্থান” নামে পরিচিত সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠিত এই দলটি একদিকে নিজেদের ‘নতুন বাংলাদেশের রূপকার’ দাবি করলেও, অন্যদিকে ইসলামপন্থীদের একাংশ একে দেখছে আওয়ামী লীগের পরবর্তী ইসলামবিদ্বেষী রাজনৈতিক সংস্করণ হিসেবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এনসিপি আসলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিকল্প হিসেবে “জুলাই চেতনা” নামক এক নতুন রাজনৈতিক ধর্মনিরপেক্ষতা ও সংস্কৃতি গড়ে তুলছে, যেখানে ধর্মীয় মূল্যবোধের জন্য নেই কোনো সহনশীলতা।
শাপলা হত্যাকাণ্ডের ছায়া
ইসলামপন্থীদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ—২০১৩ সালের শাপলা চত্বর গণহত্যা, যেটি বর্তমান সরকার ঘটালেও তখনকার কিছু ‘সুশীল’ উপদেষ্টা এখন এনসিপির ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছেন।
এক ইসলামপন্থী ছাত্রনেতা বলেন,
“এই উপদেষ্টারাই তখন হেফাজতের হাজারো কর্মী হত্যাকে ‘নাগরিক সুরক্ষা’ বলে বৈধতা দিয়েছিলেন। এখন তারা আবার নতুন দল বানিয়ে ক্ষমতায় আসতে চায়—এবার আরও চাতুরী নিয়ে।”
এনসিপি ও ‘আধুনিক’ নারীবাদ
সম্প্রতি হেফাজতে ইসলাম ও ইসলামি মূল্যবোধ নিয়ে এনসিপি’র তিন নারীনেত্রীর লিগ্যাল নোটিশ রাজনৈতিক ময়দানে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ইসলামী চিন্তাবিদরা বলছেন,
“নারী অধিকারের নামে ইসলামি উত্তরাধিকার আইন নিয়ে কটাক্ষ, এবং ধর্মীয় মূল্যবোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করা প্রকৃতপক্ষে একটি পশ্চিমা এজেন্ডা।”
এই প্রসঙ্গে এনসিপিকে অনেকে “ফ্যাশিস্ট লীগের উচ্ছিষ্ট দিয়ে গড়া নতুন সেকুলার ফ্রন্ট” বলেও আখ্যা দিয়েছেন।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে নানা সমালোচনামূলক পোস্ট ও বিশ্লেষণ, যেখানে দেখা যাচ্ছে—‘শাতিম’, ‘শাহবাগী’, ‘ডেইলি স্টার-প্রথম আলো’র বামপন্থী উপাদানরাই আজ এনসিপির নীতিনির্ধারক হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক ইতিহাস বলছে, যখনই বাংলাদেশে কোনো দল ‘প্রগতিশীলতার’ নামে ধর্মীয় মূল্যবোধের অবমূল্যায়ন করেছে, তখনই সেটি মুসলিম জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
এনসিপিকে ঘিরে এখন যে উদ্বেগ দেখা দিচ্ছে, তা সহজভাবে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।
একজন সিনিয়র আলেম বলেন,
“আওয়ামী লীগ ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে ইসলামবিদ্বেষী। এখন এনসিপি হয়েছে জুলাই চেতনার নামে ইসলামবিদ্বেষী। জনগণ যদি সচেতন না হয়, তবে আবারো ইসলামপন্থীদের বলির পাঁঠা বানানো হবে।”
বাংলাদেশে একটি নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান যেন পুরনো ইসলামবিদ্বেষের পুনরাবৃত্তি না হয়—এই আশঙ্কা এখন বাস্তব।
এনসিপির অগ্রযাত্রা কেবল ‘পরিবর্তন’ নয়, তা হতে পারে ইসলামী রাজনীতির আরেক দমনযজ্ঞের পূর্বাভাস।