ঝিকরগাছা, যশোর | ২০২০ সাল থেকে যশোর জেলার ঝিকরগাছা থানার ইস্তা গ্রামে প্রতিষ্ঠিত একটি দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—মারকাজুল হুনাফা আল মুসলিমীন—বর্তমানে গভীর সংকটে পড়েছে। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির কর্তৃত্ববাদী আচরণ, মিথ্যা অপপ্রচার, এবং ফ্যাসিস্ট প্রশাসনের সহায়তায় গৃহীত পদক্ষেপের ফলে এই প্রতিষ্ঠান এবং এর শিক্ষকরা আজ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
প্রতিষ্ঠানটির সূচনা ঘটে স্থানীয় মসজিদে কওমি কিতাব পাঠদান দিয়ে। একদল তালিবে ইলম নিয়মিতভাবে লেখাপড়া করতে থাকলে স্থানীয় প্রবীণ আলেম ও মুসল্লিদের উৎসাহে ‘আসহাবুস সুফফা’-এর আদলে একটি স্থায়ী দ্বীনি মারকায প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়। এক পর্যায়ে স্থানীয় মুসল্লিদের পক্ষ থেকে জমি ওয়াকফের প্রস্তাব আসে এবং মৌখিক শর্তে প্রতিষ্ঠানটি নতুন জমিতে কার্যক্রম শুরু করে।
কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই ওয়াকফ দাতারা প্রতিষ্ঠাকালীন মৌখিক শর্ত অস্বীকার করে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা চালায়। প্রতিষ্ঠানের পরিচালক দাবি করেন, তিনি বিনা বেতনে জীবনের সাতটি বছর এই প্রতিষ্ঠানে অতিবাহিত করেছেন, ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় করেছেন, ঋণ সংগ্রহ করে ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন এবং তাঁর বদলে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা পর্যন্ত নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছিলেন।
ঘটনাবহুল এই বিরোধে স্থানীয় প্রভাবশালীরা প্রথমে পরিচালকের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দিতে চায়। তাদের দাবি, শুধু হিফজ ও কিতাব বিভাগের পরিচালনা তিনি করবেন, অন্যদিকে ইনকামযুক্ত নূরানী বিভাগ পরিচালনা করবে জমিদাতারা। এতে সম্মতি না জানালে শিক্ষক ও পরিচালক মিলে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য শূরা গঠনের প্রস্তাব দেন, কিন্তু সেটিও প্রত্যাখ্যাত হয়।
পরিস্থিতির অবনতি ঘটে যখন শিক্ষকরা ক্লাস বর্জন করেন এবং কিছু অভিভাবকের সহায়তায় পাশ্ববর্তী এলাকায় ঘর ভাড়া নিয়ে নূরানী বিভাগ চালু করেন। নতুন প্রতিষ্ঠানে অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া প্রতিপক্ষের জন্য চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিপক্ষ তখন মিথ্যা অপপ্রচার, হুমকি এবং সরাসরি হামলার পথ বেছে নেয়। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মব জড়ো করা, প্রতিষ্ঠানের প্রবীণ ওস্তাদ মাওলানা নুরুল ইসলাম হাফিজাহুল্লাহর উপর লাঞ্ছনার ঘটনা এরই প্রমাণ।
পরিচালকের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠাকালীন মৌখিক শর্ত অনুযায়ী পূর্ণ কর্তৃত্ব তাঁকে দেয়া হবে বলা হলেও বর্তমানে তাকে অপমানজনকভাবে বিদায় নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। তিনি দাবি করছেন, বা তো শর্তসাপেক্ষে তাকে পুনর্বহাল করতে হবে, না হয় সাত বছরের বিনাপারিশ্রমিক শ্রম, ব্যয়িত অর্থ ও ঋণের প্রতিফল স্বরূপ সম্মানজনক প্রক্রিয়ায় মুক্তি দিতে হবে।
স্থানীয় জনগণ, দ্বীনি প্রতিষ্ঠানসমূহ, এবং ওলামায়ে কেরামের প্রতি আহ্বান জানিয়ে পরিচালক বলেন,
“এভাবে নিরিবিলি চলে গেলে জালিমরা আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাবে। আমাদের শিক্ষকদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে। তাই আমি চাই, ওলামায়ে কেরাম ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উপস্থিতিতে মিটিং ডেকে ন্যায়ভিত্তিক সমাধান হোক।”
বর্তমানে শিক্ষক ও ছাত্ররা আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছেন। প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে। এই পরিস্থিতিতে দ্বীনপন্থী সকল শ্রেণির মানুষের প্রতি আহ্বান—এই প্রতিষ্ঠানকে জুলুমের হাত থেকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন।
যখন আল্লাহর দ্বীনের খেদমতে আত্মনিয়োগকারী কিছু লোক জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হন, তখন গোটা উম্মাহর দায়িত্ব হয় তাদের পাশে দাঁড়ানো। আজ ‘মারকাজুল হুনাফা আল মুসলিমীন’-এর শিক্ষক ও পরিচালক সে রকমই এক নির্যাতনের শিকার। সময় এসেছে সত্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার।