তারিখ: ১৬ মে ২০২৫
আগরতলা সীমান্ত দিয়ে গতকাল রাতে ভারতের ত্রিপুরা ফ্রন্টিয়ারের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (BSF) প্রায় ৭৫০ জন ভারতীয় নাগরিককে বলপূর্বক বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB), নর্থ-ইস্টার্ন রিজিয়নের সদস্যদের সক্রিয়তা ও প্রস্তুতির কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
সীমান্তে এধরনের আগ্রাসী কর্মকাণ্ড বাংলাদেশে নতুন করে একটি মানবিক সংকটের সূচনা ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভারত সরকার দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিশেষভাবে মুসলিম তরুণ ও যুবকদের ধরে এনে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এতে করে বাংলাদেশকে দ্বিতীয় একটি রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটের সম্মুখীন করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে।
এর আগে গত ৭ মে কুড়িগ্রাম ও খাগড়াছড়ি সীমান্তে BGB-এর নর্থ-ওয়েস্টার্ন ও সাউথ-ইস্টার্ন রিজিয়নের সদস্যরা ভারত থেকে ঠেলে দেওয়া ১২৩ জন মানুষকে আটক করেন। তাদের মাঝে ভারতে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীরাও ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
১০ মে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, ওয়েস্ট জোন, সুন্দরবনের মান্দারবাড়িয়া চরের কাছ থেকে ৭৮ জনকে উদ্ধার করে। জানা যায়, BSF সদস্যরা নদীর চরে তাদের ফেলে দিয়ে চলে যায় এবং বাংলাদেশ বন বিভাগকে “বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানো হয়েছে” বলে জানায়।
সবশেষ ১৪ মে মৌলভীবাজার সীমান্ত দিয়ে আরও ৪৪ জনকে ঠেলে দেয় ভারতীয় BSF। এদের মধ্যে ১৮ জন নারী ও ১৩ জন শিশু ছিল। BGB সদস্যরা তাদের আটক করে পরবর্তীতে বাংলাদেশ পুলিশের হাতে হস্তান্তর করেন।
পরপর ঘটে যাওয়া এই ঘটনাসমূহ ভারতের পক্ষ থেকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে একটি পরিস্থিতি ‘এস্কেলেট’ করার ইঙ্গিত দেয়। সংখ্যার ভিত্তিতে বিচার করলে, গতরাতের ঘটনার মাধ্যমে একটি বড় পরিসরে পরিকল্পিত অনুপ্রবেশের প্রমাণ পাওয়া যায়।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকারের উচিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই তা প্রতিহত করতে যথাযথ কূটনৈতিক ও সামরিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা। সীমান্তে নজরদারি জোরদার, আন্তর্জাতিক মহলের সহানুভূতি অর্জন ও জাতিসংঘে বিষয়টি উত্থাপনের মতো কার্যকর উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে এর পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ।