পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবন জেলায় তথাকথিত শান্তিবাহিনীর সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হলেও প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে। অস্ত্রের মুখে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চাঁদা আদায়ের ঘটনা এখন নিয়মিত চিত্রে পরিণত হয়েছে।
গতকাল রাত ৯টা ২০ মিনিটে বান্দরবনের কেয়াজু পাড়া বাজারে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে আসে। বাজারটি জনবহুল এলাকা হওয়া সত্ত্বেও ঘটনাস্থলের মাত্র ২০ গজ দূরে একটি পুলিশ ফাঁড়ি এবং ২ কিলোমিটারের মধ্যেই একটি সেনা ক্যাম্প থাকলেও কোনো প্রতিরোধ দেখা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সন্ত্রাসীরা দুইজনকে মারধর করে এবং হুমকি দিয়ে বলে, “টাকা পাঠিয়ে দিও, না দিলে খবর আছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও সন্ত্রাসীরা অবাধে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, “সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনী সন্ত্রাসীদের অবস্থান ও গতিবিধি সম্পর্কে অবগত থাকার পরেও কার্যত কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।”
এর আগেও বান্দরবনের কালাউজানের গাবতলী বাজারে এবং চরাম্ভা রাজঘাটা এলাকার একটি ব্রিকফিল্ডে (ইটভাটা) একইভাবে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে। সন্ত্রাসীরা প্রথমে টাকা আদায় করে, পরে আবার ফিরে গিয়ে হুমকি দিয়ে আসে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা সেনাবাহিনীকে ট্যাক্স দেই আমাদের জানমাল রক্ষার জন্য, তামাশা দেখার জন্য নয়। শুধু কি লোকাল মুরগি চোর আর ছাগল চোর ধরাই এখন নিরাপত্তা বাহিনীর কাজ?”
এই পরিস্থিতিতে পার্বত্য অঞ্চলের দিনমজুর, কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আর্থিক সঙ্কটে ভুগছেন। দিনশেষের সামান্য উপার্জন থেকে চাঁদা দিতে বাধ্য হওয়ায় তাদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে।
ভুক্তভোগীরা দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ মানুষ শান্তিতে বাঁচতে পারেন।