২২ মে, ২০২৫ | নিজস্ব প্রতিবেদন
বাংলাদেশে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা আর রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা পাচ্ছে না— এমন একটি নজির স্থাপিত হলো রাজধানীর সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে।
গত ১৭ই ফেব্রুয়ারি, রাখাল রাহা নামে পরিচিত এক ব্যক্তি, যার আসল নাম সাজ্জাদূর রহমান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি স্ট্যাটাস দেন, যেখানে আল্লাহ এবং রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অত্যন্ত অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালাগাল করা হয়। স্ট্যাটাসটি জনসম্মুখে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ধর্মপ্রাণ মানুষদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ সৃষ্টি হয়।
এই ঘটনার জেরে একদল যুবক ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ সংক্রান্ত ধারায় মামলা করেন সাইবার ট্রাইব্যুনালে। আজ, ২২ মে ছিলো সেই মামলার শুনানি। কিন্তু শুনানির আগেই আদালত মামলাটি খারিজ করে দেয়।
আদালত কারণ হিসেবে জানিয়েছে, সম্প্রতি পাস হওয়া ‘সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৫’-এ ধর্ম অবমাননার যেসব ধারা পূর্ববর্তী ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩’-এ ছিল, সেগুলো সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়েছে। অর্থাৎ, এখন থেকে আল্লাহ, রাসূল (সা.) বা ইসলামের বিরুদ্ধে কেউ গালি দিলেও তার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো বিচার বা প্রতিকার পাওয়া যাবে না।
এই সিদ্ধান্তে শুধু মামলার বাদীরা নয়, দেশের সচেতন ও ধর্মনিষ্ঠ জনগণও গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করছেন,
“এই সিদ্ধান্ত ধর্ম নিয়ে কটূক্তিকারীদের জন্য একটি ‘খোলা লাইসেন্স’ হয়ে দাঁড়াবে।”
একজন বাদী বলেন,
“আমরা প্রমাণ, স্ক্রিনশট ও সাক্ষীসহ মামলা করেছিলাম। শুনানির আগে একবারও আমাদের বক্তব্য শুনলো না। শুধু বলল, এখন এই আইন নেই। তাহলে যারা আল্লাহ ও রাসূল (সা.) কে গালি দিচ্ছে, তাদের বিচার কে করবে?”
অনেকে বলছেন, “ব্লাসফেমি বা ধর্মীয় অবমাননার বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার না থাকলে দেশের ধর্মীয় সহাবস্থান ও শান্তি চরমভাবে হুমকির মুখে পড়বে।”
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন আইনে ধর্মীয় অনুভূতিকে বাদ দিয়ে ‘শুধু ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ডিজিটাল নিরাপত্তা’ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু ধর্মীয় মূল্যবোধের নিরাপত্তা সুরক্ষার কোনো ধারা রাখা হয়নি। এটা শুধু আইনের দুর্বলতা নয়, এটি একটি গভীর রাজনৈতিক ও আদর্শিক সংকেত।
হাইলাইটেড শব্দ/অংশসমূহ:
এই ঘটনা শুধু একটি মামলা খারিজ নয়— এটি দেশের ধর্মীয় ও নৈতিক বুনিয়াদকে চ্যালেঞ্জ করার মত এক গুরুতর ইঙ্গিত। যেখানে ধর্ম অবমাননা ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ হিসেবে বৈধ হয়ে যায়, সেখানে ধর্মবিশ্বাসীরা অনিরাপদ হয়ে পড়ে।