এআই অ্যাপস নিয়ে উদ্বেগ: তথ্য সুরক্ষা ও গোপনীয়তা প্রশ্নের মুখে| বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশনের জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। চ্যাটবট, অনুবাদ, ছবি তৈরি, ভয়েস প্রসেসিংসহ বিভিন্ন কাজের জন্য মানুষ এখন বহুলভাবে এ ধরনের অ্যাপ ব্যবহার করছে। তবে এসব অ্যাপ ব্যবহারকারীদের তথ্য কতটা নিরাপদে থাকে—সেটি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে প্রযুক্তি বিশ্লেষক ও সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই মডেলগুলো কার্যকরভাবে কাজ করার জন্য বিশাল ডেটা সংকলনের ওপর নির্ভর করে। ফলে এসব অ্যাপ প্রায়ই ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে এবং সেগুলো সংরক্ষণ করে বিদেশি সার্ভারে।DeepSeek AIসম্প্রতি আলোচনায় এসেছে চীনের একটি জনপ্রিয় এআই অ্যাপ DeepSeek AI। জানা গেছে, এই অ্যাপ ব্যবহারকারীর টাইপ করা তথ্য, জন্মতারিখ, আপলোড করা ফাইল, এমনকি পুরো চ্যাট ইতিহাসও সংগ্রহ করে এবং তা চীনে অবস্থিত সার্ভারে সংরক্ষণ করে। এতে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য গোপনীয়তার সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নজরদারির আশঙ্কা, তথ্যের অপব্যবহার, এবং অজান্তে তথ্য বিক্রির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরছেন বিশ্লেষকেরা।
গুগল প্লে সার্ভিস নির্ভরতাএ ধরনের এআই অ্যাপগুলোর আরেকটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো, Google Play Services-এর উপর নির্ভরতা। অনেক অ্যাপ গুগলের অ্যাকাউন্ট অথেনটিকেশন, লোকেশন সার্ভিস, সিঙ্ক ফিচার এবং নিরাপত্তা সিস্টেম ব্যবহার করে থাকে। ফলে, যেসব ডিভাইসে Google Play Service নেই, যেমন কিছু চীনা স্মার্টফোন বা কাস্টম রম চালিত ডিভাইস, সেখানে এ ধরনের অ্যাপ সঠিকভাবে কাজ করে না বা সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে যায়।গুগল প্লে সার্ভিস মূলত ব্যবহারকারীর কন্টাক্ট, লোকেশন, অ্যাপ ব্যবহারের ধরন ইত্যাদি সম্পর্কে ডেটা সংগ্রহ করে, যা আবার এআই অ্যাপগুলোর জন্য ‘ইনপুট’ হিসেবে কাজ করে।
এতে করে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা আরও একধাপ হুমকির মুখে পড়ে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই অ্যাপগুলো নিয়ে এখনো অনেক দেশে নেই কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালা বা সুরক্ষা নির্দেশিকা। যার ফলে ব্যবহারকারীদের তথ্য কীভাবে সংগ্রহ করা হচ্ছে, কোথায় সংরক্ষণ হচ্ছে, এবং কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে—তা জানা কঠিন। এতে একদিকে যেমন গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হচ্ছে, অন্যদিকে হ্যাকার ও প্রতারকদের কাছে এই ডেটা পৌঁছানোর ঝুঁকি বাড়ছে।বর্তমানে প্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধার পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যবহারকারীদের সচেতন হতে হবে, এবং ব্যবহার করার আগে এপসের প্রাইভেসি পলিসি ভালোভাবে পড়ে নিতে হবে।
পাশাপাশি সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত, এই বিষয়গুলো নিয়ে শক্তিশালী আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করা।