বরিশাল, পিরোজপুর ভান্ডারিয়ার হিন্দু সুজন মিস্ত্রির ছেলে সুমন মিস্ত্রি ঝালকাঠি, রাজাপুরের নাবালিকা ১৪ বছরের মুসলিম মেয়ে শিলা আক্তারকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ভগিয়ে নিয়ে যায়। এরপর শিলা আক্তারের পরিবার দীর্ঘ ৭ মাস যাবৎ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির পর সুমন মিস্ত্রির সন্ধান পেয়ে তার বাড়িতে গিয়ে শিলাকে শাঁখা সিঁদুর পরা অবস্থায় খুঁজে পায়।
পরবর্তীতে শিলা আক্তারকে তার পরিবার নিয়ে আসতে চাইলে সুমন মিস্ত্রি বাধা হয়ে দাঁড়ালে শিলার পরিবার সুমনকে শর্ত দেয়—সুমন যদি মুসলিম হয়, তাহলে শিলাকে তার কাছে দিবে। তখন ওই মুহূর্তে শিলার পরিবারকে সুমন এটাই জানিয়েছিল যে, মুসলিম হওয়ার যত খরচপত্র আছে সব খরচ শিলার পরিবারকে বহন করতে হবে।
সুমনের এই প্রস্তাবে শিলার পরিবার রাজি হয়েছিল, কেননা শিলা ওই সময়ে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। নিজেদের মেয়ের কথা চিন্তা করে শিলার পরিবার এই প্রস্তাবে সম্মতি দেয়। এরপর কোর্টে এভিডেভিডের মাধ্যমে সুমন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে।
ধর্ম পরিবর্তনের খরচ ১০ হাজার টাকার চেয়েও বেশি আসায় পুরো খরচ শিলার পরিবার বহন করতে পারেনি। শুধুমাত্র সামান্য এই কারণেই শিলাকে জঘন্যভাবে শারীরিক অত্যাচার করে সুমন মিস্ত্রি। শারীরিক অত্যাচারের ফলে শিলা প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়লে, আশপাশের প্রতিবেশীদের সুমন জানায়—শিলা পুকুরঘাটে পড়ে গিয়েছে।
পরবর্তীতে শিলার অবস্থা বেশি খারাপ হয়ে যাওয়াতে ভান্ডারিয়ার সরকারি হাসপাতালে শিলাকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর ডাক্তাররা জানায়—হয় মা-কে বাঁচানো যাবে, নয়তো বাচ্চাকে। পরে সেই হাসপাতাল থেকে শিলাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়। এখানে শিলার বাচ্চা জীবিত জন্ম নিলেও, পরদিন সকালে বাচ্চাটি মারা যায়। এরপর শিলার আপন খালা বাদী হয়ে থানায় মামলা করার পর, শিলাকে তার অন্তরঙ্গ ছবি ও ভিডিও ফুটেজের ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে আবার তাকে নিয়ে পালিয়ে যায় সুমন মিস্ত্রি। এই মুহূর্তে সুমন শিলাকে সাথে নিয়ে পলাতক অবস্থায় আছে। শিলার পরিবারের কাছে শিলা এখন নিখোঁজ।
এদিকে শিলা আক্তারের মা মালা বেগম এবং শিলার বড় বোন শান্তা সুমন মিস্ত্রিকে সামনাসামনি দেখার পর জানতে পারে—এক বছর আগে শিলার বড় বোন শান্তার সাথেও প্রেমের ফাঁদ পেতে ভাগিয়ে নিয়ে হিন্দু বানিয়েছিল এই একই সুমন মিস্ত্রি। তখন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং মেম্বার মিলে শিলার বড় বোন শান্তাকে সুমনের বাড়ি থেকে শাঁখা সিঁদুর পরা অবস্থায় উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। শান্তা তার নিজ পরিবারের কাছে ফিরে আসার ঠিক দু’মাস পরেই ফোনকলের মাধ্যমে শান্তার ছোট বোন শিলাকে কৌশলে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ফাঁসিয়েছিল সুমন মিস্ত্রি।
তথ্যসূত্রে এক সাংবাদিক ভাইয়ের কাছ থেকে আমরা এটাও জানতে পারি যে, কিছু বছর আগে হিন্দু সুমন মিস্ত্রির বাবা সুজন মিস্ত্রিও এক মুসলিম মহিলাকে বিয়ে করে মাত্র কয়েক মাস সংসার করে তাকে ছেড়ে দিয়েছিল।
এই ভয়াবহ এবং গুরুত্বপূর্ণ কেস নিয়ে আমাদের কাজ চলমান রয়েছে, ইনশাআল্লাহ আমরা শিলা আক্তারকে নিরাপদে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া অব্দি এবং সুমন মিস্ত্রি ও তার পরিবারের জন্য উপযুক্ত শাস্তি নির্ধারণ না করা অব্দি হাল ছাড়ছিনা।
সোর্স: Team Protect Our Sisters BD