ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে ঘটে গেল আরেকটি হৃদয়বিদারক ও বিদ্বেষপ্রসূত হত্যাকাণ্ড।
মাত্র একটি টুপি তোলার কারণে জীবন দিতে হলো ২৯ বছর বয়সী এক মুসলিম যুবককে।
ফিরদাউস আলম ওরফে আসজাদ বাবু, বিহারের কিষাণগঞ্জ জেলার কোচধামন ব্লকের কাইরি বীরপুর গ্রামের বাসিন্দা, কাজের সূত্রে হরিয়ানার পানিপথ জেলার ফ্লোরা সেক্টর ২৯-এ অবস্থান করছিলেন। গত শনিবার, ২৪ মে সন্ধ্যায়, তিনি বন্ধুর সাথে দেখা করতে বের হন। ঠিক সেই সময়েই ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনাটি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়, ‘শিশু লালা’ নামের এক উগ্র হিন্দুত্ববাদী ব্যক্তি তাচ্ছিল্য ও বিদ্বেষপূর্ণভাবে আসজাদের মাথার টুপি ছুঁড়ে ফেলে দেয়। আসজাদ যখন টুপিটি তুলতে নিচু হন, তখন সেই উগ্র ব্যক্তি হঠাৎই লাঠি দিয়ে তার মাথায় সজোরে আঘাত করে।
এই আকস্মিক ও নৃশংস হামলায় গুরুতর আহত হন আসজাদ।
তাকে দ্রুত রোহতকের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়, তবে পরদিন সকালেই মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই আসজাদের পরিবার প্রথমে ভয় এবং অনিশ্চয়তায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করছিলেন।
তবে কোচধামানের প্রাক্তন বিধায়ক মুজাহিদ আলমের উদ্যোগে ও স্থানীয়দের সহায়তায় অবশেষে ফ্লোরা সেক্টর-২৯ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
২৫ মে, ২০২৫, থানায় ধারা ১০৩(১)-এর অধীনে মামলা রুজু হয়, যার মামলা নম্বর ২৮৮/২০২৫।
পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ শুরু করেছে।
প্রাক্তন বিধায়ক মুজাহিদ আলম আরও দাবি করেছেন,
“এই বর্বরোচিত হামলা শুধু ঘৃণার নয়, এটি রাষ্ট্রবিরোধীও। তাই এই মামলায় UAPA আইন প্রয়োগ করে দোষীকে দ্রুত বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি—মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হোক।”
তিনি হরিয়ানা ও বিহার সরকারের কাছে শোকসন্তপ্ত পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান এবং এ ঘটনাকে ঘিরে দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
ময়নাতদন্ত শেষে, আসজাদ বাবুর মরদেহ গভীর রাতে ফ্লোরা সেক্টর-২৯-এর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
তার মৃত্যু শুধু একটি পরিবার নয়, গোটা সমাজের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে।
এই ঘটনা শুধু একটি অপরাধ নয়, ধর্মীয় বিদ্বেষের এক জ্বলন্ত উদাহরণ। এমন ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা শুধু একটি পরিবারের অধিকার নয়, পুরো সমাজের দায়।
নির্যাতিতের পাশে দাঁড়ানোই আজকের সত্যিকারের প্রতিবাদ।