চট্রগ্রামে এক নারীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর আলোচনার কেন্দ্রে থাকা আকাশ চৌধুরী শেষ পর্যন্ত নিজেই চট্টগ্রাম কোতোয়ালী থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন। এক সময় সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছিল।
আত্মসমর্পণের পর আকাশ চৌধুরী সামাজিক মাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি সেখানে দাবি করেন, ঘটনাটি তিনি করেছেন ‘ঈমানী চেতনার জায়গা থেকে’ এবং তা তার বিশ্বাস অনুযায়ী সঠিক ছিল। তার ভাষায়, “আমি চোরও না, ডাকাতও না – আমাকে প্রশাসন থেকে খুঁজতে হবে কেন?”
পোস্টে তিনি ইসলামপন্থী বক্তব্য উপস্থাপন করে বলেন, “ইসকন, বাম, নাস্তিক ইসলাম বিদ্বেষীদের একটি লাথি মারার কারণে যদি প্রশাসন আমাকে খোঁজে, তাহলে আল্লাহ ও রাসূল (সা.) এর কটুক্তিকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন?”
আকাশ আরও লেখেন, “আমি আমার পরিবার এবং ঘনিষ্ঠজনদের সিদ্ধান্তক্রমে আজকেই চট্টগ্রাম কোতোয়ালী থানায় আত্মসমর্পণের ঘোষণা দিচ্ছি।”
তিনি তার পোস্টে প্রয়াত জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর একটি উক্তিও উদ্ধৃত করেন— “বিড়ালের মতো ৫০০ বছর বাঁচার দরকার নাই, সিংহের মতো ১ ঘণ্টা বাঁচতে চাই।”
ঘটনার সূত্রপাত শাহবাগে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত একটি কর্মসূচিকে ঘিরে, যেখানে আকাশ চৌধুরীর নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি এক নারীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয় এবং আকাশ চৌধুরীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি ওঠে।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, আত্মসমর্পণের বিষয়টি গ্রহণ করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
সূত্র: কালবেলা