খাগড়াছড়ি, পানছড়ি:সম্প্রতি খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি এলাকায় পাহাড়ি উপজাতিদের দুইটি গ্রুপের মধ্যে ভয়ংকর রক্তাক্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষ স্থানীয় পরিস্থিতিকে করে তুলেছে অস্থির ও আতঙ্কজনক।
দৃশ্যগুলো দেখে মনে হতে পারে, এটি যেন বাংলাদেশের কোনো প্রান্ত নয়, বরং মায়ানমারের আরাকান বা ভারতের মণিপুরের কোনো রক্তাক্ত অধ্যায়।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা যাচ্ছে, আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র, অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে উপজাতি গ্রুপগুলো। অনেকেই বলছেন, এটি যেন স্বাধীন দেশের ভেতরেই আরেকটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগ্রাসী প্রয়াস।
গুরুতর অভিযোগ রয়েছে গণমাধ্যমের নীরবতা নিয়ে।যেখানে জাতীয় মিডিয়াগুলো তুচ্ছ কোনো ঘটনা নিয়েও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইভ সম্প্রচার করে, সেখানে দেশের এক প্রান্তে গৃহযুদ্ধ-সদৃশ এমন ভয়াবহ সংঘর্ষ নিয়ে কোনো কাভারেজ নেই বললেই চলে। দেশের বেশিরভাগ নাগরিক জানেই না, পাহাড়ে কী ভয়ানক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
সেনা প্রত্যাহারের দাবির প্রশ্নে নতুন বিতর্কএই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, যারা পাহাড় থেকে সেনা প্রত্যাহারের দাবি তুলছেন, তারা আসলে কতটা বাংলাদেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করেন? পাহাড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি কমে গেলে এই সংঘাত আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে—এমন আশঙ্কা জনমনে তীব্র হচ্ছে।
একটি দ্বিমুখী মানদণ্ড?এছাড়া অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, যদি এই সংঘর্ষে জড়িতদের স্থলে কোনো টুপি পরা মুসলমান থাকতেন, তবে মিডিয়া কিংবা প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া কি এমনই হতো? তাহলে কি বিষয়টি ‘সন্ত্রাসবাদ’ কিংবা ‘ধর্মীয় উগ্রবাদ’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যেতো না?
সূত্র: TBN desk