সাম্প্রতিক সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একজন ঘনিষ্ঠ মিত্র ও তাঁর প্রশাসনের অর্থমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হওয়া স্কট বেসেন্ট নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে। কারণ একটাই—এই মানুষটি প্রকাশ্যে একজন গে বিলিয়নিয়ার।
তবে ট্রাম্প সম্পর্কে বহুদিন ধরেই একটি বিতর্ক রয়েছে—তিনি নাকি এলজিবিটিকিউ+ (LGBTQ+) বিরোধী। একদিকে দেখা যায়, তিনি ২০১৬ ও ২০২০ সালের নির্বাচনে রক্ষণশীল খ্রিস্টানদের ভোট পেতে LGBTQ ইস্যুতে সরাসরি সমর্থন দেননি। আবার অন্যদিকে, প্রশাসনিক পর্যায়ে তাঁর এমন কিছু সিদ্ধান্ত আছে যেগুলো প্রশ্ন তোলে—তিনি কি আদৌ সেই বিরোধিতার সাথে আন্তরিক ছিলেন?
স্কট বেসেন্ট কে?
স্কট বেসেন্ট একজন হেজ ফান্ড বিলিয়নিয়ার এবং খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ, যিনি আগে জর্জ সোরোসের অধীনে কাজ করেছেন। পরবর্তীতে তিনি ট্রাম্পের কাছের অর্থনৈতিক উপদেষ্টায় পরিণত হন।২০২৫ সালে, ট্রাম্প যখন আবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন, তখন তিনি বেসেন্টকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করেন। এবং এই মনোনয়নটি সিনেটেও অনুমোদন পায় ৬৮-২৯ ভোটে।স্কট বেসেন্ট তাঁর স্বামী জন ফ্রিম্যান এবং তাঁদের দত্তক নেওয়া দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করেন। তিনি প্রকাশ্যে গে, এ বিষয়ে কখনো লুকোচুরি করেননি।
তাহলে ট্রাম্পের অবস্থান কী?
এখানেই আসে মূল প্রশ্ন। ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী মঞ্চে কখনো সরাসরি গে কমিউনিটির পক্ষে বক্তৃতা দেননি, এমনকি অনেক সময় সমালোচিতও হন ট্রান্সজেন্ডারদের বিরুদ্ধে নীতিমালা প্রণয়নের জন্য। কিন্তু বাস্তবতা হলো, তিনি একজন প্রকাশ্যে গে বিলিয়নিয়ারকে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক দায়িত্বে বসিয়েছেন।
অনেক বিশ্লেষক বলছেন, ট্রাম্পের আচরণ দ্বিমুখী নয় বরং কৌশলগত। তিনি জানেন, একজন অর্থমন্ত্রীর কাজে দক্ষতা ও প্রতিভা মুখ্য — ব্যক্তিগত যৌন পরিচয় নয়। এটাই তাঁর এই পদে একজন গে ব্যক্তিকে বসানোর যৌক্তিকতা তৈরি করে দেয়।
রাজনৈতিক বাস্তবতা
আমেরিকার রাজনীতিতে এমন অনেক কিছুই আছে যা বাইরে থেকে একরৈখিক মনে হয়, কিন্তু ভিতরে ব্যাপক বাস্তবতা ও বিবেচনার ফল। ট্রাম্পের মতো একজন প্রভাবশালী নেতা হয়তো ব্যক্তিগতভাবে ধর্মীয় বা রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গির সমর্থক, কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান, বহুত্ববাদ এবং সাংবিধানিক সমতার নীতি মানতে হয়।
একটি আলোচিত বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন:> “I choose the best people for the best jobs — I don’t care who they sleep with. That’s not my business.”
এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায় — ট্রাম্প প্রকাশ্যে গে অধিকারকে সমর্থন না করলেও, ক্ষমতা বা দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে যৌন পরিচয়কে বাধা হিসেবে দেখেন না।তাহলে, ট্রাম্প কি গে-বিরোধী?
এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো এত সরল নয়। তিনি হয়তো গে আন্দোলনের ব্যানার হাতে হাঁটেননি, কিন্তু একজন গে বিলিয়নিয়ারকে দেশের অর্থনীতি চালানোর দায়িত্ব দিয়ে প্রমাণ করেছেন তিনি পুরোপুরি বিরোধী নন।
তাই যাঁরা মনে করেন, ট্রাম্প এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায়ের “শত্রু” — তাঁদের ভাবনাটি হয়তো পুনর্বিবেচনা করা দরকার।
সূত্র: TBN desk
1. স্কট বেসেন্ট একজন প্রকাশ্যে সমকামী বিলিয়নিয়ার। সূত্র: The Advocate Magazine, 2025 সালের প্রকাশনা; Attitude UK, 2025।
2. ট্রাম্প বলেন: “I choose the best people for the best jobs — I don’t care who they sleep with…” সূত্র: CNN Political Archives, নভেম্বর 2024; Fox News Sunday Interview, ডিসেম্বর 2024।
3. ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে প্রথম প্রকাশ্যে সমকামী উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রী নিযুক্ত হন সূত্র: U.S. Senate Public Records, January 2025; NBC News Politics, 2025।