ইসরায়েল যখন ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেম, এবং বৈজ্ঞানিক ও রাজনৈতিক নেতাদের লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, তার জবাবে ইরান শুক্রবার রাতে শুরু করে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস III’।
এই পাল্টা প্রতিশোধমূলক অভিযানে ইরান শতাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ে দেয় ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে—বিশেষত সেনাঘাঁটি ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দিকে। এটি ছিল গত কয়েক দশকের মধ্যে ইসরায়েল লক্ষ্য করে ইরানের সবচেয়ে পরিকল্পিত ও প্রকাশ্য সামরিক প্রতিক্রিয়া।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা, প্রেসিডেন্ট, এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের (IRGC) নতুন প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর অভিযানের আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। পাকপুর বলেন:
“এই শিশুহত্যাকারী শাসনের জন্য শীঘ্রই নরকের দরজা খুলে যাবে। জায়নবাদী শাসন তিক্ত ও বেদনাদায়ক পরিণতি এবং বিশাল ধ্বংসের মুখোমুখি হবে।”
ইরানের কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের ‘ডেভিডস স্লিং’ এবং ‘এরো’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করেছে বলে ইরানি সংবাদমাধ্যম দাবি করছে।
ইসরায়েলও হামলা অব্যাহত রেখেছে। শনিবার সকালেও তেহরান, তাবরিজ ও বিভিন্ন পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলার চিত্র ও ভিডিও প্রকাশিত হয়।
এ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের পর, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে দুটি ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে।
তিনি ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগ করার আহ্বান জানান এবং সতর্ক করেন—আরও কিছু হলে প্রতিক্রিয়া আসবে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন হামলার আগেই ইরানি প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু–র সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।
তিনি ইসরায়েলের হামলার নিন্দা করেন, ইরানে প্রাণহানির জন্য সমবেদনা জানান এবং বলেন,
“পারমাণবিক সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান চাইছে রাশিয়া। যুদ্ধ নয়।”
শুক্রবার সকালে অপরিশোধিত তেলের দাম ১০% এর বেশি বেড়ে যায়। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন,
“এই সংঘাত যদি হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়, তাহলে বিশ্বে তেল সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগবে।”
বিশেষত পশ্চিমা অর্থনীতি বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে, যদি এই উত্তেজনা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ নেয়।