জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ | ২০ জুন ২০২৫
জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের খাগাউড়া গ্রামের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা শরীফ আহমদ এর উপর সংঘটিত এক বর্বর সন্ত্রাসী হামলা পুরো এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি তাবলিগ জামাআতের দাওয়াতি কাজ ও ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে আসছিলেন। পাশাপাশি সুদ, গান-বাজনা ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলছিলেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগপন্থী একটি মহল তার কার্যক্রমে ক্ষুব্ধ ছিল। তারা একাধিকবার তাকে হুমকি দিয়ে আসছিল, কিন্তু মাওলানা শরীফের দৃঢ়তা ও জনপ্রিয়তা তাদের বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে তারা এক পরিকল্পিত হামলার ছক আঁকে।
গত ১৭ জুন (বুধবার) সন্ধ্যায়, শুইরারপার এলাকা থেকে গরু নিয়ে ফেরার পথে, মাওলানা শরীফ ফারুক মিয়ার খামারের দক্ষিণ পাশে বেড়িবাঁধে পৌঁছালে মাগরিবের আজান হয়। তিনি সেখানে নামাজে মগ্ন হন। এ সময় একদল সন্ত্রাসী তাকে ঘিরে ধরে বলে—
“এত দেরি কীসের? তাড়াতাড়ি নামাজ শেষ করো।”
নামাজ শেষে তিনি সুন্নত পড়তে চাইলে তারা বাধা দেয় এবং পেছন থেকে তার দুই হাত বেঁধে শুরু করে নির্মম মারধর।
হামলায় নেতৃত্ব দেয় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকর্মীরা। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন—
তারা তাকে কটূক্তি করে বলতে থাকে—
“তুই তাবলিগ করিস! মাইকে ডাকস দাওয়াত দেওয়ার জন্য! খেলাফত জমিয়তের কথা বলিস? এখন তোর বাপদের নিয়ে আয়!”
তাকে প্রথমে নেওয়া হয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল আহাদের বাড়িতে, সেখান থেকে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি ছিদ্দেক আলীর বাড়িতে। সেখানে তার হাতে দেশীয় অস্ত্র ধরিয়ে জোরপূর্বক মিথ্যা স্বীকারোক্তি দিতে চাপ দেওয়া হয়—
“বল, এইসব নিয়ে আমাদের মারতে যাচ্ছিলি।”
কিন্তু মাওলানা শরীফ সাহসের সঙ্গে জবাব দেন—
“আমি মিথ্যা বলতে পারব না।”
এটি শুনে তারা আরও বর্বর নির্যাতন চালায় এবং মিথ্যা স্বীকারোক্তির ভিডিও ধারণের চেষ্টা করে।
পরিবারের মাধ্যমে খবর পেয়ে জগন্নাথপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে। এরপর তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।
📌 এই হামলা শুধু একজন আলেমের উপর নয়, বরং একটি আদর্শ ও বিশ্বাসের উপর আঘাত। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে যেন দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হয়।
👉 বেশি বেশি শেয়ার করুন যেন নির্যাতনের শিকার এই আলেমের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা যায়।