TBN desk || ২৮ জুন ২০২৫ ||
সম্প্রতি নওগাঁসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একটি অস্বাভাবিক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে—তরুণ হিন্দু যুবকদের মাঝে কেদারনাথ যাত্রা যেন এক প্রচলিত রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বিষয়টি যতটা সহজভাবে দেখা হচ্ছিল, বাস্তবতা ততটাই জটিল ও উদ্বেগজনক।
একজন মুসলিম নাগরিক জানান, তিনি নিয়মিত একটি হিন্দু সেলুনে চুল কাটাতে যেতেন। কিন্তু একদিন গিয়ে দেখেন, যার কাছে তিনি চুল কাটাতেন, সে আর নেই। জানতে পারেন সে কেদারনাথ গেছে। কয়েকদিন পর আবার গেলে একই উত্তর: “স্যার, ও কেদারনাথ গেছে।”
চিন্তিত হয়ে তিনি গবেষণা করেন, এবং দেখতে পান—কেদারনাথ যাত্রা সাধারণত ১১–১৫ দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। তাহলে প্রশ্ন উঠছে, কেন এই যুবকরা ৩–৪ মাস সময় নিচ্ছে? শুধু তাই নয়, যাতায়াত, থাকা-খাওয়া এমনকি যাত্রার পুরো খরচ বহন করছে বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন ও এনজিও।
নওগাঁসহ আশপাশের বহু হিন্দু যুবক নাকি ইতোমধ্যেই কেদারনাথ সফর করে এসেছে কিংবা যাওয়ার প্রস্তুতিতে রয়েছে। এসব যাত্রার প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কেউ কেউ দাবি করছেন, এসব তীর্থযাত্রার আড়ালে চলছে গোপন প্রশিক্ষণ—সম্ভবত সঙ্ঘ পরিবারভুক্ত সংগঠনগুলোর (যেমন RSS) তত্ত্বাবধানে।
প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা গেছে, শত শত তরুণ সাদা শার্ট ও কালো টুপি পরে হাতে লাঠি নিয়ে এক ধরনের শারীরিক প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি RSS (Rashtriya Swayamsevak Sangh)-এর ট্রেনিং ক্যাম্পের দৃশ্য। সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরেই হিন্দুত্ববাদী অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছে।
বাংলাদেশের ভূখণ্ডে এমন কোনো কর্মসূচি কীভাবে চলছে, তা তদন্ত হওয়া জরুরি। এসব প্রশিক্ষণ কী উদ্দেশ্যে, কী শেখানো হচ্ছে, কে বা কারা অর্থায়ন করছে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর উচিত বিষয়টির গভীরে যাওয়া এবং জাতিকে সচেতন করা।
Source: নাগরিক অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় পর্যবেক্ষণ